মঙ্গলবার ছিল ভাতারের নিত্যানন্দপুরের বাসিন্দাদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভিড় এড়াতে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা দিন ধার্য করা হয়েছে। তবুও মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা উপস্থিত হন।

শেষ আপডেট: 17 February 2026 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সরকারি সহায়তা প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা দিতে গিয়ে নাজেহাল হলেন উপভোক্তারা। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বিডিও অফিসে হুড়োহুড়ি ও চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হল মঙ্গলবার।
খেতমজুরদের সহায়তা প্রকল্পের ফর্ম জমা দেওয়ার দিনে অফিস চত্বরে উপচে পড়ে ভিড়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি,ঠেলাঠেলি। বিশৃঙ্খলার মধ্যেই ফর্ম জমা দিতে হয় আবেদনকারীদের।
মঙ্গলবার ছিল ভাতারের নিত্যানন্দপুরের বাসিন্দাদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভিড় এড়াতে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা দিন ধার্য করা হয়েছে। তবুও মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা উপস্থিত হন। বিশেষ করে মহিলাদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভাতার বিডিও অফিসে দাঁড়িয়ে উপভোক্তা সোনালী খাতুন বলেন, “আমাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা হওয়া উচিত ছিল। এত ভিড়ের মধ্যে খুব কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।” ভূমিহীনদের ভাতার আবেদন করতে আসা শেখ আজাদ আলি বলেন, “দু’ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। খুব হয়রান হতে হচ্ছে।”
নিত্যানন্দপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ জুলফিকার আলি বলেন, “একসঙ্গে অনেক লোক হয়ে গিয়েছে। আজ অফিসে আধিকারিকও কিছু কম আছেন। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবাইকেই একটু ধৈর্য ধরতে হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক-যুবতীদের পাঁচ বছর ধরে মাসিক দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্য বাজেট পেশের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অনুদানও বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে খেতমজুরদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সরকারি দফতরে আবেদনকারীদের ভিড় বাড়ছে। ভাতার জন্য সেই ভিড়ই এদিন অশান্তির পরিবেশ তৈরি করল ভাতারে।