গরপা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক রামমোহন শীল অভিযোগ করেছেন, গত তিন মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি। এরপরেই জেলা শিক্ষা দফতর, জেলাশাসক এমনকি শিক্ষামন্ত্রীকেও জানান তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।

শেষ আপডেট: 14 October 2025 19:09
তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে ধরনায় বসলেন এক পার্শ্বশিক্ষক। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় শোরগোল পড়ল হাওড়ার জগাছা সার্কেলের এসআই অফিস চত্বরে।
গরপা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বশিক্ষক রামমোহন শীল অভিযোগ করেছেন, গত তিন মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি। এরপরেই জেলা শিক্ষা দফতর, জেলাশাসক এমনকি শিক্ষামন্ত্রীকেও জানান তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।
রামমোহনবাবু অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে এসআই অফিসে গিয়ে তিনি কেন বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে জানতে চান। অভিযোগ, অফিসে তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি বসিয়ে রাখা হয়, কিন্তু কেউ তাঁর প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি। এরপরেই অফিসের গেটের সামনে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন নিয়ে ধরনায় বসে পড়েন তিনি।
রামমোহনবাবু বলেন, “মাসে যে অল্প বেতন পাই, তাতেই সংসার চালানো কঠিন। তারউপর তিন মাস ধরে বেতন বন্ধ, ধার করে সংসার টানছি। স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা, শাশুড়ি ও দুই সন্তান—সবার দায় আমার উপর। ছেলেকে কলেজে ভর্তি করাতে পারিনি। মেয়ের পড়াশোনাও বন্ধ। আর বাঁচার কোনও উপায় নেই।”
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এসআই অফিসে পৌঁছলে কর্মচারীরা জানান, সংশ্লিষ্ট অফিসার চলে গেছেন। পরে রামমোহন শীল অভিযোগ করেন, “সাংবাদিকরা আসার খবর পেয়ে এসআই ম্যাডাম পেছনের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে গেছেন, কারণ তাঁর কাছে কোনও উত্তর নেই।” পরে অবশ্য ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পার্শ্বশিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেন। আশ্বাস পেয়ে রামমোহন শীল আপাতত ধরনা তুলে নেন। তবে তিনি জানান, “যদি সমস্যা না মেটে, আবারও ধরনায় বসব।”
রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক উমেশ রাই বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার হাল আজ ভয়াবহ। শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে রাস্তায় বসে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করছেন। তিন মাস ধরে এক শিক্ষক মাইনে পাচ্ছেন না—এটা প্রশাসনের লজ্জা। মুখ্যমন্ত্রী কি এই অবস্থার দায় নেবেন?”