বিরজা গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন। সোমবার সকালে তিনি পুলিশ দল নিয়ে আন্দাল ব্রিজের নীচের একটি স্থানে পৌঁছন, যেখানে তার ভাই সাফিক আসবেন বলে জানিয়েছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুরে ২৩ বছর বয়সী এক মেডিক্যাল ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় (Durgapur Incident) ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। তবে অন্যতম মূল অভিযুক্তকে (Main Accused) পুলিশ সহজে হয়তো ধরতে পারত না, যদি না তার পরিবারের সদস্যই অদম্য সাহস আর সততা দেখাতেন। ওই অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দিতে (Arrest) সাহায্য করেছেন তারই বোন (Sister) - রোজিনা। নিঃসন্দেহে সাহসিকতার অনন্য নজির রেখেছেন তিনি।
ওড়িশার (Odisha) বালাসোরের বাসিন্দা ওই ছাত্রীকে কলেজ চত্বরের এক জঙ্গলেই গত শুক্রবার রাতে গণধর্ষণ (Gangrape) করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশি অভিযান চলাকালীন একে একে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। তবে মূল অভিযুক্তের নাগাল তার বোন ছাড়া পুলিশ পেত কিনা সন্দেহ। তাকে ধরিয়ে দিয়েছেন অভিযুক্তর বোন।
বিরজা গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন। সোমবার সকালে তিনি পুলিশ দল নিয়ে আন্দাল ব্রিজের নীচের একটি স্থানে পৌঁছন, যেখানে তার ভাই সাফিক আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। সাফিক পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে গ্রেফতার করে।
রোজিনা বলেন, “আমরা গরিব হলেও আত্মসম্মান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যদি সে অপরাধী হয়, শাস্তি হওয়া উচিত। আর নির্যাতিতার বিচার পাওয়া উচিত।” সাফিক যে পুলিশের ভ্যানে উঠে ভয়ে কাঁপছিল, সে কথাও জানান রোজিনা।
এদিকে, দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন, পাঁচজন অভিযুক্ত - সাফিক, রিয়াজউদ্দিন, অপু বড়ুই, ফিরদৌস, এবং নাসিরুদ্দিন এখন পুলিশ হেফাজতে।
রোজিনার এই মানসিকতা শুধু পুলিশকে সাহায্য করেনি বরং নির্যাতিতার পরিবার এবং তদন্তকারীদের জন্যও বড় ধরনের শান্তি দিয়েছে। তবে ভাইকে ধরিয়ে দিলেও তার পরিবার নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সে নিয়ে রোজিনা জানিয়েছেন, “প্রতিদিন পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসত, যা পরিবারের জন্য কলঙ্কের কারণ হচ্ছিল। তবে এখন এমনটা হওয়ার কথা নয়। ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের তো কোনও দোষ নেই।”
ওড়িশার (Odisha) জলেশ্বরের বাসিন্দা ওই ছাত্রী দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই মেডিক্যাল ছাত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে কলেজ চত্বরের বাইরে এক বন্ধুর সঙ্গে ডিনার (Dinner) করে ফেরার পথে একটি গাড়িতে থাকা কয়েকজন যুবক তাঁদের ধাওয়া করে।
তাঁর কথায়, “দেখলাম, তিনজন ছিল। ওরা গাড়ি ফেলে আমাদের দিকে আসছে। আমরা ভয় পেয়ে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে পালাতে (Run Towards Jungle) শুরু করি। ওরা পিছন থেকে এসে আমাকে ধরে ফেলে, টেনে নিয়ে যায় জঙ্গলের ভিতরে।”
তিনি আরও জানান, “ওরা আমার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বলে, বন্ধুকে ডেকে আনতে। বন্ধু না এলে ওরা জঙ্গলের আরও ভিতরে নিয়ে যায়। আমি চিৎকার করলে বলে, যদি আওয়াজ করি তবে আরও লোককে ডেকে আনবে, তারাও একই কাজ করবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি তাঁর মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখছেন চিকিৎসকরা।