সোমবার দুর্গাপুরে গিয়ে ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ওড়িশা মহিলা কমিশনের (Women's Commission) চেয়ারপার্সন শোভনা মোহান্তি। সেখানেই ফোনে নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলতে সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে', দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Gang Rape) সোমবার এমনই বার্তা দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী (Odisha CM) মোহনচরণ মাঝি (Mohan Majhi)। নির্যাতিতার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুর্গাপুরে গিয়ে ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ওড়িশা মহিলা কমিশনের (Women's Commission) চেয়ারপার্সন শোভনা মোহান্তি। সেখানেই ফোনে নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন। পরে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়, দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত করতে সর্বস্তর থেকে চাপ তৈরি করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ফোনে নির্যাতিতার উদ্দেশে মোহন বলেছেন, “চিন্তা করবেন না। ওড়িশা সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব। ধৈর্য রাখো, সাহস হারিও না।” তরুণীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি আরও বলেন, “তোমার পড়াশোনা যেন কোনওভাবে বন্ধ না হয়, তার জন্যও সব ব্যবস্থা করা হবে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের কলেজ বদলের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি চান, ওড়িশার কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর হতে। জবাবে মোহন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আপনি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী, তাই নিয়মকানুন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে মহিলা কমিশনের প্রধানের কাছে সমস্ত সমস্যার কথা খোলাখুলি জানাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ফোনে তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় মোহন জানতে চান, তাঁরা রাজ্যপালকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কি না। তরুণীর মাকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, “এই নৃশংস অপরাধের জন্য দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। ওড়িশা সরকার ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য সব দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করবে।”
মোহনচরণ মাঝি আরও নির্দেশ দেন, ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রধান যেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি নিজে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন এবং পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীর অভিযোগ, শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে তিনি গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার প্রথম তিনজনকে আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া এক সহপাঠীকেও আটক করেছে পুলিশ।