দুর্গাপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনকে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন কমিশনের সদস্য তথা বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বার পদক্ষেপ করেছে কমিশন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে (Durgapur Incident) নির্যাতিতার বয়ানে যে পাঁচ জনের উল্লেখ ছিল, তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কড়া শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত চুপ করে থাকতে রাজি নয় ছাত্রীর পরিবার। এদিকে রাজ্য সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশনও (NCW)। ইতিমধ্যে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১১ দফা সুপারিশ (Recommendations) করেছে তারা।
গণধর্ষণের খবর পেয়ে দুর্গাপুর পৌঁছেছিল জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা। সেই প্রেক্ষিতে দুর্গাপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনকে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন কমিশনের সদস্য তথা বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদার। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে এ বার পদক্ষেপ করেছে কমিশন। ১১ দফা সুপারিশের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে (CV Ananda Bose) চিঠি পাঠিয়েছে তারা।
ঠিক কী কী সুপারিশ করেছে কমিশন
নির্যাতিতার বিনামূল্যে এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এই মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে (Fast Track Court) শুনানি করতে হবে। নির্যাতিতার বিশেষ পরীক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। কারণ ট্রমার কারণে তিনি সকলের সঙ্গে পরীক্ষা (Exam) দেওয়ার অবস্থায় নাও থাকতে পারেন। পাশাপাশি জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন যাতে দুর্গাপুরের ওই মেডিক্যাল কলেজে দ্রুত পরিদর্শনে যায়, সেই সুপারিশও করেছে তারা।
একই সঙ্গে, হাসপাতালে একটি পুলিশ ফাঁড়ি বা পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র বসানোর সুপারিশ করেছে কমিশন। পড়ুয়ারা কে কখন ঢুকছেন, কে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তা প্রত্যেক প্রবেশ এবং বাহির পথে নথিবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল (Hospital) চত্বরে কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তার মধ্যে কতগুলি কাজ করে, তারও একটি বিস্তারিত রিপোর্ট এক মাসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত খাবারের দোকান এবং অন্য সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
এদিকে সূত্রের খবর, ধৃতদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি, অভিযোগকারী তরুণীর এক সহপাঠী বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ওই যুবকের কাছ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা তাঁর বয়ানে জানিয়েছিল এই অপরাধে ৫ জন জড়িত আছে। সেই মতোই তদন্ত চালায় পুলিশ। আগেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রবিবার রাতে চতুর্থজনকে ধরে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দুর্গাপুর পুরনিগমের এক অস্থায়ী কর্মীকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়। গ্রেফতার হওয়া শেষ দু'জনকে আজই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে খবর। বাকি তিনজনকে আগেই ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।