ওবিসি তালিকা (OBC List) নিয়ে রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর মঙ্গলবার স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

বিধানসভায় লাড্ডু বিলি। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওবিসি তালিকা (OBC List) নিয়ে রাজ্যের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ওপর মঙ্গলবার স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের সেই রায় সামনে আসতেই বুধবার সোশ্যাল মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এবার পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এবং বিধানসভার গেটে লাড্ডু (Laddu) বিলি করলেন বিজেপি বিধায়করা। শুভেন্দু বলেন, "ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি সংরক্ষণে অপব্যবহার করতে চেয়েছিল রাজ্য। বহু সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে রাজ্যের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হল। তাই লাড্ডু বিলির সিদ্ধান্ত।"
সরকারি চাকরিতে ওবিসিদের জন্য ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করেছিল রাজ্য। যা নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় রাজ্যের সংরক্ষণ নির্দেশ বাতিল করে অতীতে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, 'ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণ করা যায় না'।
গত বছর হাইকোর্টের রায়ে জানানো হয়েছিল, ওবিসি তালিকা পুরোপুরি আইন মেনে তৈরি করা হয়নি। নির্দিষ্ট সমীক্ষা না করেই, নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই কারা ওবিসি, তা ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে ওবিসি শংসাপত্র প্রাপকদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা ১৯৯৩ সালের ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস আইনের পরিপন্থী।
এ ব্যাপারে আগেই রাজ্যের বিরুদ্ধে ভোট ব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ এনেছিলেন বিরোধী দলনেতা। এদিন আদালতের রায় সামনে আসতেই এ ব্যাপারে রাজ্যকে আক্রমণ করে টুইটে বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, আদালতের রায়ে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম না মেনে তোষণের রাজনীতি করছিল। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের লোকজনকে ওবিসির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিধানসভার নির্দিষ্ট কয়েকটি গেটে রক্ষীদের চেকিং নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বলেন, "যদি নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে তাহলে বিধানসভা সব গেটেই চেকিং হওয়া দরকার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সব মন্ত্রীরা যে গেট দিয়ে প্রবেশ করেন সেখানে চেকিং করা হয় না।" কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু এও বলেন, "তাহলে ওই গেটটার নাম মমতা গেট বলে লিখে দিক!"
অন্যদিকে হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "এটা অন্তর্বর্তী রায়। রায়কে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।" নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অচল করে দেওার চেষ্টা হচ্ছে বলেও বুধবার অভিযোগ করেছেন কুণাল।