পাহাড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। বিপর্যস্ত গোটা উত্তরবঙ্গ ও সিকিম। একের পর এক এলাকায় ধস। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতেও অন্য ছবি কোচবিহারে। তোর্সা নদীতে ভেসে আসা কাঠের গুড়ি তোলার ধুম কোচবিহার শহরে।

তোর্সা নদীতে ভেসে আসা কাঠের গুড়ি তোলার ধুম কোচবিহার শহরে।
শেষ আপডেট: 5 October 2025 17:19
পাহাড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। বিপর্যস্ত গোটা উত্তরবঙ্গ ও সিকিম। একের পর এক এলাকায় ধস। মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতেও অন্য ছবি কোচবিহারে। তোর্সা নদীতে ভেসে আসা কাঠের গুড়ি তোলার ধুম কোচবিহার শহরে।
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তোর্সায় ভেসে আসছে অগুনতি কাঠের গুঁড়ি। এমন দৃশ্য তাঁরা এ যাবতকালের মধ্যে দেখেননি। এত কাঠ একসঙ্গে ভেসে আসতে দেখে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন এলাকার মানুষ। যার যতটা সাধ্য দড়ি বেঁধে কাঠ তোলার চেষ্টা করছেন। খরস্রোতা নদীও ভয় দেখাতে পারছে না তাঁদের।
তোর্সার জলে ভেসেছে ঘরবাড়ি-সংসার। সে সব ফেলে রেখেই তোর্ষার পাড়ে চলে এসেছেন আসমা বিবি। ভয়াবহ স্রোত নদীতে। তার মধ্যেই গ্রামের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন কাঠ তুলতে। সকাল থেকে খেটে ঘরে তুলেছেন বেশ কয়েকটি গাছের গুঁড়ি। বললেন, ‘‘এত কাঠ একসঙ্গে ভেসে আসতে আমার জীবনে আমি দেখিনি। বড় বড় গাছের গুঁড়ি ভেসে আসছে। কষ্ট করেই তুলেছি আমরা।’’ ভয় করেনি? এ প্রশ্নের উত্তর, ‘‘ভয় করেছে, কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তুলছি।’’
বন দফতরের অনুমান, কয়েক কোটি টাকার গাছ নষ্ট হয়েছে বৃষ্টিতে। সেই কাঠই ভেসে আসছে নদীতে। নদীর পাড় বরাবর পাহারা দিচ্ছেন বনকর্মীরা। নদীতে ভেসে আসা কাঠ বাঁচাতে চলছে টহলদারি। তবে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না তাঁরা।
পূর্বাভাস ছিলই। সেই মতো গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে ধস নামতে শুরু করে। পরের পর গাছ ভেঙে পড়তে থাকে নদীতে। সেই সমস্ত গাছই এখন নদীর প্রবল স্রোতে তীরবেগে নামছে সমতলে।