উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বর্তমানে কমলেও থামেনি। ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের প্যানিক না করার আবেদন করা হচ্ছে। ট্র্যাভেল এজেন্টদের আশ্বাস, 'ভয় পাবেন না, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।'
.jpeg.webp)
এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 5 October 2025 17:49
দুর্গাপুজোর ছুটি কাটিয়ে শনি-রবিবার অনেকেরই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। পুজো শেষ হতেই নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতাও জারি করে হাওয়া অফিস। শেষ কয়েকদিন টানা বৃষ্টি। শনিবার রাত থেকে বিপর্যয় বাড়তে থাকে। রবিবার ভোরের মধ্যে তছনছ হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ অংশ। নাগরাকাটায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, তিস্তা বইছে ১০ নং জাতীয় সড়ক দিয়ে। পেডং, ঋষিখোলা, উত্তর সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ।
পর্যটকদের আপাতত হোটেল ছেড়ে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সমস্ত সাহায্য করা হচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা সবার বাঁ-হাতের খেলা নাও হতে পারে। কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, পরিবার বা প্রিয়জনকে নিয়ে এই পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্ত থাকবেন? জরুরি টিপস দিলেন শহরের এক ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধার শ্রয়ণ সেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও দিলেন আপডেট।
আপাতত প্রথমেই 'প্যানিক' না করার আবেদন জানান তিনি। সকলকে মাথা ঠান্ডা রেখে যাবতীয় পদক্ষেপ করার পরামর্শ দেন। পর্যটকরা সচেতন থাকলে এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ থাকা সম্ভব। আগে হোটেল বা হোমস্টে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে, জানতে হবে। আবহাওয়ার আপডেট জেনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ এড়িয়ে চলাই ভাল। শ্রয়ণ মনে করেন, যদি হোটেল বা লজে কেউ আটকে পড়েন, তাহলে অবশ্যই দুর্যোগ কেটে যাওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকা উচিত এবং খাবার-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দরকার।
মন শান্ত রাখা এসময় কঠিন হলেও, জরুরি। আতঙ্কিত হওয়ার বদলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পরামর্শ শ্রয়ণের। প্রয়োজনে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নদী ও পাহাড়ি এলাকায় একা না বেরনোটাই বুদ্ধিমানের।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করেছে। পর্যটকদের জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে নবান্ন। যেহেতু একাধিক ট্রেন বাতিল, তাই রাজ্য সরকারের নির্দেশে আজ রাতেই চালু হচ্ছে এনবিএসটিসির বিশেষ নাইট সার্ভিস। ছুটির আনন্দের মধ্যে বিপর্যয় এলে সচেতনতা ও স্থির মনের বিকল্প নেই। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।
শ্রয়ণ বলেন, 'আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ আমি করি, তাই বুঝতে পারছিলাম বিপর্যয় আসতে চলেছে, সেই মতো পরিকল্পনা করেছি। যেমন আজ যার ট্রেন, একদিন আগে তাকে নামিয়ে নিয়েছি শিলিগুড়িতে। কারও কোনও স্পটে যাওয়ার হলে ক্যানসেল করতাম, তাকে বা তাদের সেখানেই রেখে দিতাম। আর তাছাড়াও অনেক বিকল্প রাস্তা আছে। দার্জিলিং পুলিশ জানিয়েছে সেকথা। যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে ধসে, সেগুলো খোলার চেষ্টাও করা হচ্ছে।'
কী কী বিকল্প রাস্তা রয়েছে? ভ্রমণ সংস্থার কর্ণধার জানালেন, লাভা দিয়ে নামা যেতে পারে, পুরনো হিলকার্ট রোড রয়েছে, ওগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ঠিকঠাক। রোহিণী-মিরিক বন্ধ হলেও ঘুরপথে রাস্তা আছেই। প্যানিকে শরীর খারাপ হবে তাই বদলে ঠান্ডা মাথায় চিন্তাভাবনা করতে হবে। স্থানীয়দের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। আর অনেক হোটেল বা হোমস্টে ফ্রি-তে থাকার ব্যবস্থা করেছে। রাস্তায় আটকে পড়লে নিকটবর্তী কোথাও চলে যান, মাথা গোঁজার ঠাঁই ঠিক মিলে যাবে।
বর্তমানের পরিস্থিতি সম্পর্কে 'দ্য ওয়াল'কে তথ্য দেন শ্রয়ণ। জানান, অবস্থা খারাপ হলেও বৃষ্টি খানিকটা থেমেছে এবং তার ফলে কয়েকটি নদীর জলস্তর কমেছে। যেমন ঋষিখোলায় নদীর ধারের এক হোমস্টে জানিয়েছে, পরিস্থিতিত উন্নত হচ্ছে। জল কমছে, অনেক পর্যটক বিকেলের দিকে আশপাশে গিয়ে হেঁটেও এসেছেন। ফলে চিন্তার কিছু নেই।