টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং ও আশপাশের এলাকায় ধস। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 5 October 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি। বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ও সিকিম। একের পর এক এলাকায় ধস। ভেঙেছে দুধিয়া লোহার সেতু ও বিজনবাড়ি সেতু। মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪, রবিবার সকাল থেকে বন্ধ একাধিক রাস্তা। মৃতের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানালেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পূর্বাভাস ছিলই। সেই মতো গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল পাহাড়ি এলাকাগুলিতে। টানা বর্ষণের ফলে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে ধস নামতে শুরু করে। বন্ধ হয়ে যায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।
ধসে চাপা পড়ে, জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার। এখনও পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে, সূত্রের খবর ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এপর্যন্ত। সংখ্যাটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা, জলঢাকা-সহ প্রায় সমস্ত নদী। ধসের ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে ঋষিখোলা, পেডংয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, একই অবস্থা মিরিকেরও। সেখানে পর পর ধস নামায় এপর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে খোলা হয়েছে ২৪ ঘণাটার কন্ট্রোল রুম। যেকোনও অসুবিধায় পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। উদ্ধারকাজও চলছে দ্রুত গতিতে।
Deeply pained by the loss of lives due to a bridge mishap in Darjeeling. Condolences to those who have lost their loved ones. May the injured recover soon.
The situation in Darjeeling and surrounding areas is being closely monitored in the wake of heavy rains and landslides. We…— Narendra Modi (@narendramodi) October 5, 2025
এদিকে প্রধানমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে সববেদনা জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, 'দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে পড়ায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে, ঘটনায় আমি মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন, এই কামনা করি। টানা ভারী বৃষ্টি এবং ধসের কারণে দার্জিলিং ও সংলগ্ন এলাকার যা পরিস্থিতি, তাতে নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সমস্ত সম্ভাব্য সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এদিন সকালেই শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপায় না থাকলেও দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা হবে। উদ্ধার শুরু হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার দাবিও তোলেন।
শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত একটি রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে ধংসস্তূপ সরিয়ে। বৃষ্টি থামলে কাজ দ্রুত করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।