আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা (Rain Forecast) রয়েছে।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 October 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর বিহারের নিম্নচাপ এখন শক্তি হারিয়েছে, তবু তার প্রভাব বাংলায় আজও দেখা যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। টানা বর্ষণের ফলে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে ধস নামতে শুরু করে। ধসে চাপা পড়ে, জলে তলিয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে দক্ষিণবঙ্গ-সহ কলকাতায় (Kolkata Weather) বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দুই ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা (Rain Forecast) রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, বৃষ্টির সঙ্গে দমকা ঝোড়ো বাতাসও বইতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই হাওয়া অফিস মানুষকে বাইরে বের হওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় যানবাহন চলাচলে সচেতন থাকতে হবে এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের আকাশও মেঘলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বাকি জেলা তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে। আগামী দুইদিন দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ অনেক কমে যাবে।
পূর্বাভাস মতোই গত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি (North Bengal Weather) চলছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে প্রবল বর্ষণ হয়েছে। শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রোহিনী রোডে ধস নামায় সেটিও আপাতত বন্ধ রয়েছে। ধসে উত্তর সিকিমের লাচুংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ফলে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক।
বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা, জলঢাকা-সহ প্রায় সমস্ত নদী। যার ফলে দার্জিলিঙের দুধিয়া ব্রিজের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুলছে একাংশ। ধসের ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে ঋষিখোলা, পেডংয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, একই অবস্থা মিরিকেরও।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে খোলা হয়েছে ২৪ ঘণাটার কন্ট্রোল রুম। যেকোনও অসুবিধায় পাশে রয়েছে রাজ্য সরকার। উদ্ধারকাজও চলছে দ্রুত গতিতে।
প্রধানমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে পড়ায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে, ঘটনায় আমি মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন, এই কামনা করি।'