প্রকৃতির হঠাৎ তাণ্ডবে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স কার্যত বিধ্বস্ত। প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি জলোচ্ছ্বাসে রাতারাতি ডুবে গেছে নাগরাকাটার বিস্তীর্ণ এলাকা।

নাগরাকাটায় মৃত ৯
শেষ আপডেট: 6 October 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে (North Bengal Heavy Rain) বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড় (North Bengal Flood)। ধসে কোথাও ঘরবাড়ি, কোথাও সেতু ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটও। এই বিপর্যয়ে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা এবং একজনের হোমগার্ডের চাকরি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের মধ্যে নাগরাকাটাতেই মৃতের সংখ্যা ৯।
প্রকৃতির হঠাৎ তাণ্ডবে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স কার্যত বিধ্বস্ত। প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি জলোচ্ছ্বাসে রাতারাতি ডুবে গেছে নাগরাকাটার বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃত অন্তত ৫ জন, তাঁদের মধ্যে এক শিশু। আরও কয়েকজনের কোনও খোঁজ নেই। ভেসে গিয়েছে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু, জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর।
গত দু'দিনের বৃষ্টিতে নাগরাকাটার ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল। সোমবার শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) এবং মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তারপরই রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যায়। বামনডাঙায় পৌঁছতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের ওপর হামলা চালায় কিছু দুষ্কৃতী। একের পর এক গাড়িতে ভাঙচুর চালান ও ইট-পাথর ছোঁড়েন বলে অভিযোগ। এমনকি জুতোও ছোঁড়া হয় বলে দাবি বিজেপির। হামলার জেরে মুখ ফেটে যায় বিজেপি সাংসদের।
শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে উপচে পড়ে বামনডাঙা এলাকার সমস্ত খাল-বিল, নদী ও নালাগুলি। নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মুহূর্তে জল ঢুকে যায় মডেল ভিলেজে—যেখানে প্রায় ৫০০ পরিবার বাস করেন। কোমরসমান জল প্রথমে গৃহবন্দি করে, পরে রূপ নেয় প্রবল স্রোতে। আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। সেই সময়েই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়।
জলের তোড়ে ভেসে যান একাধিক গ্রামবাসী। প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫ বছরের শানচারোয়া সাউ, ৩০ বছরের কস্তু লোহার, তাঁর স্ত্রী ২৫ বছরের রাধিকা লোহার, ২৫ বছরের শিল্পা মুন্ডা এবং আলিশা নাগাসিয়ার দুই মাসের শিশুকন্যা। মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে জলে হারিয়ে যায় শিশুটি—যে দৃশ্য আজও যেন আঁতকে উঠছে গোটা গ্রাম। কস্তু ও রাধিকা ছিলেন নবদম্পতি। তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার হয় কয়েক ঘণ্টা পরেই।প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গিয়েছে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরের সেতুর একাংশ। ভেসে গেছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে তৈরি রাস্তা ও সেতুও। বহু স্থানে উপড়ে পড়েছে গাছ। বন্ধ বিদ্যুৎ সংযোগ। রবিবার রাত পর্যন্ত ফের চালু করা যায়নি বিদ্যুৎ পরিষেবা।
বিপর্যস্ত এলাকা জুড়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ ও প্রশাসন। বাগানের ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে।