সূত্রের খবর, করোনার পর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা হু-হু করে কমতে শুরু করে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫০টি স্কুলে একেবারেই পড়ুয়া নেই।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 August 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়ুয়া নেই (No Students)। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঘরে বসেই মাসমাইনে তুলছেন। এই অভিযোগে সরব হয়েছে শিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই শিক্ষা দফতরের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই(মাধ্যমিক) পলাশ রায়।
সূত্রের খবর, করোনার পর থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা হু-হু করে কমতে শুরু করে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ৫০টি স্কুলে একেবারেই পড়ুয়া নেই। এর মধ্যে ৩৫টি স্কুল থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন্যত্র বদলি হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় ১৫টি স্কুলের ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির অপেক্ষায়। স্কুলে পড়ুয়া নেই বলে তাঁরাও আর স্কুলে যান না, অথচ নিয়মিত মাইনে পাচ্ছেন!
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শিউড়ি জুনিয়র হাইস্কুলের অবস্থা চরম দৃষ্টান্ত। ২০২২ সাল থেকে একটিও পড়ুয়া নেই। অথচ দু’জন শিক্ষক আছেন। টিচার ইন-চার্জ উত্তম বিশ্বাসের বক্তব্য, “তিন বছর পড়ুয়া নেই। বদলির জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। ফলে পড়ানোর সুযোগ থেকেও আমরা বঞ্চিত।”
একই ছবি ময়না ব্লকের ব্রজবল্লভপুর জুনিয়র হাইস্কুলে। ২০২১ সাল থেকে ছাত্রশূন্য। তবুও রয়েছেন দু’জন শিক্ষক। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন অন্যত্র ক্লাস নিতে। কিন্তু কোনও লিখিত নির্দেশ না থাকায় সমস্যায় রয়েছেন তাঁরা।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকেরই পশড়া পিতুলসাহা জুনিয়র হাইস্কুলে খাতায় তিনজন পড়ুয়ার নাম থাকলেও স্কুলে আসে না কেউ। তাঁদের মধ্যে দু’জন শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, একজন ড্রপআউট। অথচ দু’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন।
ফলে বাস্তবে গোটা জেলায় অন্তত ১৫টি স্কুল ছাত্রশূন্য হয়েও সেখানে রয়েছেন প্রায় ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শিক্ষা দফতরের এক কর্তা বলেন, “এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দ্রুত বদলি করতে হবে।”
এই ঘটনার জেরে ডিআই পলাশ রায়ের বিরুদ্ধে দফতরে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তিনি অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেন, “নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। বিকাশ ভবন থেকে জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। আমরা সব সার্কেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি।”