৭ বছর ধরে চাকরি করার পর আজ যে তাঁরা ডাক পেলেন না, তাহলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? তাঁরা কি এই তালিকার নিরিখে অযোগ্য হয়ে গেলেন?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2025 23:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগের জন্য ২০ হাজারের বেশি যোগ্য প্রার্থী সংক্রান্ত এক তালিকা (SSC new list) প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। যাঁরা ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন, তাঁরা ডাক পাবেন ইন্টারভিউতে (SSC recruitment interview), তার আগে প্রয়োজন জরুরি নথি যাচাই (Documents verification) – এটা তারই তালিকা। তবে তা এসএসসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার পরই ফের চরমে উঠেছে অন্য এক বিতর্ক।
এই তালিকায় নাম নেই এই যোগ্য-অযোগ্য আন্দোলনের প্রথম সারির মুখদের। ৭ বছর ধরে চাকরি করার পর আজ যে তাঁরা ডাক পেলেন না, তাহলে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? তাঁরা কি এই তালিকার নিরিখে অযোগ্য হয়ে গেলেন? ভরসা কি তাহলে নবম দশমে? উঠছে নানা প্রশ্ন।
২০১৬ প্যানেলের অনেকে যেমন নতুন তালিকা অনুসারে ডাক পেয়েছেন, তেমনই অনেকে পাননি। ডাক আসেনি আন্দোলনের সক্রিয় মুখ চিন্ময় মন্ডল, সুমন বিশ্বাস, মেহেবুব মন্ডলের মতো অনেকেরই।
চাকরি হারাদের একজন সুমন বিশ্বাসের কথায়, ‘অনেক যোগ্য শিক্ষকরা ডাক পাননি, তাহলে কি তাঁরা অযোগ্য? ২০১৬ প্যানেল বাতিল মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার ওপেন সিলেকশন করেছে, নিজের পাপ মুছে ফেলার জন্য।’ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করবেন তা নিয়ে, সেই বিবৃতিও চেয়েছেন তিনি।
চিন্ময় যেমন জানান, তিনি একাদশে ডাক পাননি। তাঁর কথায়, ‘কাটঅফের চেয়ে তিন নম্বর কম এসেছে। ডাক আসেনি।’ তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা পারলেন না, তাঁদের ভবিষ্যৎ কি? সরকারে যেন এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।
আরও এক চাকরিহারা মেহেবুব মন্ডল জানান, ‘আমাদের মূল দাবি, এত বছর চাকরি করে নিরপরাধ হয়েও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ অসংগতিতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের কিন্তু কোনও দোষ নেই। কেউ যেন কর্মহীন না হয়ে পড়েন, কারও পরিবার যেন ক্ষতির মুখে না পড়েন।’
শুধু চাকরি হারাদেরই ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে, তা নয়। ক্ষুব্ধ নতুন চাকরিপ্রার্থীরাও। তাঁদের অনেকের দাবি, লিখিত পরীক্ষার ৬০ নম্বরে পুরো নম্বর পেয়েও তাঁরা ডাক পাননি। তারপর অভিজ্ঞতা নেই বলেও তাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন বলে দাবি। নবম-দশমের নিয়োগ নিয়ে একটা ক্ষীণ আশা রয়েছে, হয়তো সেখানে তাঁরা ডাক পেতে পারেন। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠে আসছে, ঘোষিত শুন্যপদ কি তাহলে বাড়বে?
এই পর্যায়ে আবেদন করেছিলেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ৩,১২০ জন বিশেষভাবে সক্ষম। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৯৩ শতাংশ প্রার্থী। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ১০০টি শূন্যপদের জন্য ডাক পাবেন ১৬০ জন চাকরিপ্রার্থী। অর্থাৎ, মোট ৩৫,৭২৬টি শূন্যপদের জন্য ইন্টারভিউর ডাক পেতে পারেন প্রায় ৬০ হাজার প্রার্থী।
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, মোট শূন্যপদ কমেছে ৬৯টি। অর্থাৎ, আগের ১২,৫১৪টি শূন্যপদ থেকে এখন তা দাঁড়াল ১২,৪৪৫টি। এই পরিবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রার্থীদের মধ্যে, ঠিক কী কারণে কমল শূন্যপদ?
এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষা দফতর থেকেই প্রাথমিকভাবে ১২,৫১৪টি শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হয়েছিল কমিশনের কাছে। সেই সংখ্যার ভিত্তিতেই লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইন্টারভিউয়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে শূন্যপদের পুনর্গণনা করে দেখা যায়, কিছু পদ আর ‘শূন্য’ নেই - ফলে কমে গেল মোট পদসংখ্যা।
তবে এই হ্রাসের কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি কমিশন। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনিক স্তরে পদ পূরণের হিসেব বা স্কুলের পুনর্বিন্যাসের মতো কারণে কিছু শূন্যপদ বাদ পড়তে পারে। আবার শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এমন পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার ইঙ্গিতও হতে পারে।