সাক্ষাৎকার-যোগ্য (qualified for ssc interview) প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া (documents verification) শুর হচ্ছে চলতি মাসেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2025 22:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা এবং ৭ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশ করেছিল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। আজ তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (SSC new official website) একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক (11th-12th teachers recruitment) পদে আবেদনকারীদের উদ্দেশে একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। তাতে নাম রয়েছে ইন্টারভিউ-যোগ্য (qualified for interview) প্রার্থীদের। নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া (documents verification) আগামী ১৮ই নভেম্বর থেকেই। টুইট করে সেকথা জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ''পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন আজ তাদের ওয়েবসাইটে একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের বিস্তৃত তথ্যসম্বলিত সাক্ষাৎকার-যোগ্য প্রার্থীদের এক প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। উক্ত প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া আগামী ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হতে চলেছে - যা আমাদের অভিভাবক, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আমাদের অঙ্গীকারের স্বচ্ছ, সুদৃঢ় ও দায়বদ্ধতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক বার্তা - ভরসা রাখুন, ভরসা থাকুক।''
পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন আজ তাদের ওয়েবসাইটে একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের বিস্তৃত তথ্যসম্বলিত সাক্ষাৎকার-যোগ্য প্রার্থীদের এক প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে।
উক্ত প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া আগামী ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকে…— Bratya Basu (@basu_bratya) November 15, 2025
প্রসঙ্গত, একাদশ দ্বাদশের ফল প্রকাশের পর চাকরি হারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, প্রশাসনিক পদক্ষেপে ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন নিয়োগের বাস্তবায়নের পথে এগোবে। তিনি জানিয়েছিলেন প্রতিটি পদক্ষেপ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তাই যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
৬০ নম্বরের মোট ৩৫টি বিষয়ের জন্য পরীক্ষা দেন প্রার্থীরা। অংশগ্রহণ করেছিলেন মোট ২,২৯,৬০৬ জন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মিলিয়ে মোট ৪৭৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নথি যাচাই (Document Verification)। তারপরই প্রকাশিত হবে ইন্টারভিউয়ের তালিকা।
ফলাফল ঘোষণার পর প্রথমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শূন্যপদ রয়েছে ১২,৫১৪টি।
এই পর্যায়ে আবেদন করেছিলেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৩ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ৩,১২০ জন বিশেষভাবে সক্ষম। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৯৩ শতাংশ প্রার্থী। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ১০০টি শূন্যপদের জন্য ডাক পাবেন ১৬০ জন চাকরিপ্রার্থী। অর্থাৎ, মোট ৩৫,৭২৬টি শূন্যপদের জন্য ইন্টারভিউর ডাক পেতে পারেন প্রায় ৬০ হাজার প্রার্থী।
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, মোট শূন্যপদ কমেছে ৬৯টি। অর্থাৎ, আগের ১২,৫১৪টি শূন্যপদ থেকে এখন তা দাঁড়াল ১২,৪৪৫টি। এই পরিবর্তন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রার্থীদের মধ্যে, ঠিক কী কারণে কমল শূন্যপদ?
এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষা দফতর থেকেই প্রাথমিকভাবে ১২,৫১৪টি শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হয়েছিল কমিশনের কাছে। সেই সংখ্যার ভিত্তিতেই লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইন্টারভিউয়ের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে শূন্যপদের পুনর্গণনা করে দেখা যায়, কিছু পদ আর ‘শূন্য’ নেই - ফলে কমে গেল মোট পদসংখ্যা।
তবে এই হ্রাসের কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেয়নি কমিশন। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসনিক স্তরে পদ পূরণের হিসেব বা স্কুলের পুনর্বিন্যাসের মতো কারণে কিছু শূন্যপদ বাদ পড়তে পারে। আবার শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এমন পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার ইঙ্গিতও হতে পারে।