স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ভাইবোন পরিযায়ী শ্রমিকের সন্তান। নদী ভাঙনের জেরে তাদের মূল বাড়ি ভেসে যাওয়ায় পরিবারটি কিছুদিন আগে অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। শনিবার রাতে বাবা-মা ও সন্তানরা একসঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 14 September 2025 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের রানিতলায় শনিবার গভীর রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Fire Broke Out in Murshidabad)। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল তিন ভাইবোনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে সাত বছরের এক কন্যা শিশু ও দুই বালক। তাদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ভাইবোন পরিযায়ী শ্রমিকের সন্তান। নদী ভাঙনের জেরে তাদের মূল বাড়ি ভেসে যাওয়ায় পরিবারটি কিছুদিন আগে অস্থায়ী ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। শনিবার রাতে বাবা-মা ও সন্তানরা একসঙ্গে ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকা ঘরে আগুন লাগে। সবাই ঘুমিয়ে থাকায় কিছু বোঝার আগেই আগুন ঘরটিকে গ্রাস করে ফেলে। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তিন শিশুর অগ্নিদগ্ধ দেহ।
মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লাগে। এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শিশুদের বাবা-মা। নদী ভাঙনে ভিটে হারিয়ে যন্ত্রণা যেটুকু ছিল, এবার তিন সন্তানকে হারিয়ে সেই যন্ত্রণা যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেল।
উল্লেখ্য, চলতি বছর শুরু থেকেই গঙ্গার জলস্ফীতি এবং অতিবৃষ্টিতে ভাঙন সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা নদী ভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রশাসনের তরফে নদীবাঁধ মেরামত ও নতুন করে শক্তপোক্ত বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ, সেগুলি সময়মতো বাস্তবায়িত হয় না। কিছুদিন আগেই নদীর পাড়ে ভেটিভার ঘাস ও ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গঙ্গার ধারে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত নতুন বসতি তৈরির উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু কার্যত বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণেই এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ।
রবিবার সকালেই পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হুগলির তারকেশ্বরের (Massive Fire Broke Out In Tarakeswar) চাঁপাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। জানা গিয়েছে, বাসস্ট্যান্ডের একটি চপের দোকানে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পাশের রেস্তরাঁ, ফুলের দোকান-সহ মোট ছয়টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।