দমদমের আকাশে তখন প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ফলে কখনও রানাঘাট, কখনও কৈখালি, কখনও সোনারপুর বা ডায়মন্ড হারবারের উপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। এমনকি বেহালা ফ্লাইং ক্লাবের আকাশেও একাধিকবার নামার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 March 2026 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে মাঝ আকাশে দেড় ঘণ্টার টানটান উৎকণ্ঠা। সেই পরিস্থিতি সামলে নিরাপদে বিমান নামানোর জন্য (Mamata Banerjee Flight Landing) পাইলটদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার অন্ডালে যাওয়ার পথে আগের দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাইলট খুব ভাল ছিল, আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।”
বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বর ও বীরভূমে কর্মসূচি শেষ করে বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে উড়ান দেয় মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে নামা সম্ভব হয়নি।
দমদমের আকাশে তখন প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ফলে কখনও রানাঘাট, কখনও কৈখালি, কখনও সোনারপুর বা ডায়মন্ড হারবারের উপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলে। এমনকি বেহালা ফ্লাইং ক্লাবের আকাশেও একাধিকবার নামার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতার বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়াতেই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে ঝড়ের দাপট কিছুটা কমলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে প্রতিবারই অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে জ্বালানির হিসাব—দুইয়ের মাঝেই চাপে পড়ে বিমান কর্তৃপক্ষ। অন্ডালে ফিরে যাওয়া হবে, নাকি অন্য বিকল্প নেওয়া হবে—তা নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
শেষমেশ বিকেল ৫টা ১৮ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বড়সড় বিপদের সম্ভাবনা কাটিয়ে ওঠার পরই পাইলটদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দক্ষতার প্রশংসায় মুখর হন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনই কলকাতা বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে মমতা ফের একবার একযোগে তিনি নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে। বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ ঠিকমতো মানছে না কমিশন (ECI)। কেউ জানতেই পারছে না কার নাম আছে, আর কার নাম বাদ গেছে। মমতার কটাক্ষ, মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করে দিচ্ছে! তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ''সব নাম বাদ দিয়েছে। এখনও লিস্ট বের করেনি। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা আমরা এখনও হাতে পাইনি। এটা গণতন্ত্রের হত্যা, গণতন্ত্রের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।''
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও এদিন কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা - পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত রান্নার গ্যাস রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে না।