পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও এদিন কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা - পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত রান্নার গ্যাস রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 March 2026 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ইতিমধ্যে একটি অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (West Bengal SIR Supplementary List 2026) বেরিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হতেই পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ ঠিকমতো মানছে না কমিশন (ECI)। কেউ জানতেই পারছে না কার নাম আছে, আর কার নাম বাদ গেছে। মমতার কটাক্ষ, মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করে দিচ্ছে!
শুক্রবার অন্ডালে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে মমতা একযোগে নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ''সব নাম বাদ দিয়েছে। এখনও লিস্ট বের করেনি। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা আমরা এখনও হাতে পাইনি। এটা গণতন্ত্রের হত্যা, গণতন্ত্রের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।''
এসআইআর প্রসঙ্গে মমতার সংযোজন, ''৫০ শতাংশের বেশি নাম দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। একদিন মানুষ এর কৈফিয়ত চাইবে। বুকের পাটা থাকলে আগে লিস্ট বের করুক। মানুষকে জানতে দিক কার নাম আছে, কার নেই।'' মমতার কটাক্ষ, এইভাবে চলতে থাকলে এরা 'হিটলারের শাসনকেও ছাড়িয়ে যাবে'।
নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এও বলেন, ''গোটা সিস্টেমটাই ভ্যানিশিং ওয়াশিং মেশিন হয়ে গেছে। মানুষের অধিকারই ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। বিজেপি বেছে বেছে কয়েক লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। এটা কি বিজেপির জমিদারি, দেশের জমিদার ওরা?'' প্রশ্ন তাঁর। তিনি এও স্পষ্ট করেন, দেশকে বেচে দিয়েছে মোদী সরকার আর এখন লোকের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট করতে চাইছে। মমতার হুঁশিয়ারি - ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, মানুষ এর জবাব দেবেই।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও এদিন কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা - পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত রান্নার গ্যাস রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে না।
বলেন, ভোটের সময় ভিনরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাজ্যে আসবেন। তাঁদের রান্নার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষের গ্যাসের জোগানে কোনও সমস্যা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন। তাঁর বক্তব্য, আগে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমানো উচিত।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব সত্ত্বেও দেশে এলপিজি বা জ্বালানির কোনও ঘাটতি তৈরি হবে না। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেই আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবুও রাজ্যের স্বার্থে সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম সতর্ক অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী।