“যদি ভয় দেখায়, ভয় পাবেন না। এরা আইন মানে না, বেলাইনের পথিক। তাই প্রত্যেক প্রার্থীকে সঙ্গে করে আইনজীবী নিয়ে যেতে বলব, যাতে কোনও রকম বজ্জাতি করতে না পারে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 March 2026 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের পর বীরভূমের দুবরাজপুরে নির্বাচনী জনসভা (West Bengal Assembly Election 2026) করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বীরভূমের লাল মাটিতে দাঁড়িয়ে এদিন যেমন তিনি চড়া সুরে বিজেপি-কে আক্রমণ করলেন, তেমনই গণনার দিন দলীয় কর্মীদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন। জানালেন, “১০০ শতাংশ ভিভিপ্যাট (VVPAT) ছাড়া গণনা মানব না।”
এদিন দুবরাজপুরের সভা থেকে ইভিএম (EVM) কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, গণনার দিন ইভিএম মেশিন খুব ভাল করে দেখে নিতে হবে। ওরা কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত গণনা টেনে নিয়ে যাবে। অসমের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, গায়ের জোরে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন সেখানে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এ রাজ্যেও এমনটা হতে পারে বলে সাবধান করেছেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “যদি ভয় দেখায়, ভয় পাবেন না। এরা আইন মানে না, বেলাইনের পথিক। তাই প্রত্যেক প্রার্থীকে সঙ্গে করে আইনজীবী নিয়ে যেতে বলব, যাতে কোনও রকম বজ্জাতি করতে না পারে।”
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে নেত্রী বলেন, “এরা জাতের নামে বজ্জাতি করছে আর ধর্মের নামে করছে অধর্ম।” এদিন অন্নপূর্ণা পুজোর অনুষঙ্গ টেনে মা-বোনেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজেপি যত চক্রান্ত করবে, তত বেশি ব্যর্থ হবে। নাম না করে বিজেপি ও কমিশনকে ‘হাঁদা-ভোঁদা’ ভাই বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা কেবল চক্রান্ত করতে জানে। কিন্তু এবার আমরাই ওদের ‘বেলাইন’ করে দেব।”
বীরভূমের এই সভা থেকে মমতা স্পষ্ট করে দেন যে, এবারের নির্বাচনে ভোট রক্ষা করাই তৃণমূলের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেই লড়াইয়ে আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং বুথ স্তরে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়ে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী।
শুধু তাই নয়, কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হয়ে মমতা বলেন, “কারও মিথ্যে কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা লড়াই করে মানুষের জন্য কাজ করেছি, আর আগামীতেও করব।”
তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই রাজ্য আগে কাজ করেছে, পরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাঁর কথায়, এপ্রিল থেকে বাড়তি ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও মার্চ থেকেই তা পৌঁছে গিয়েছে মহিলাদের হাতে। বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা পূরণ হয় না।
‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, এই প্রকল্পে অনেকেই বঞ্চিত হতেন। তার বদলে রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে সাইকেল, বই, পোশাক ও মিড-ডে মিল, তফসিলি ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরোহিত ও ইমামদের ভাতা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে সমস্ত কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে, প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, নিজের রাজ্য তহবিল থেকেই ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাসের দামের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ভর্তুকি না দিয়ে প্রচারে অর্থ খরচ করা হচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়, বাইরে থেকে নেতা-নেত্রীদের এনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “সবাই আমার মানুষ, কাউকে আলাদা করে দেখা হয় না।” সবশেষে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা জানান, বাংলায় তৃণমূলই একমাত্র শক্তি, যারা ক্ষমতায় থাকতে পারে। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, যতই চক্রান্ত হোক, তা সফল হবে না।