চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি খরচে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রচার বা প্রচ্ছন্ন প্রচার চালানো আচরণবিধির পরিপন্থী। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের ছবি ব্যবহার করে প্রচার করা হলে তা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই এই ধরনের প্রচারে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 25 March 2026 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল রাজ্যে। তৃণমূল নেত্রী তথা ভবানীপুরের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বিজেপি (MCC Violation Complain By BJP)। বুধবার কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি করা হয়েছে।
বিজেপির তরফে অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা বা প্রার্থী সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রচার চালাতে পারেন না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়ম ভেঙেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ প্রচার সামগ্রী প্রকাশ্যে রাখা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি খরচে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রচার বা প্রচ্ছন্ন প্রচার চালানো আচরণবিধির পরিপন্থী। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের ছবি ব্যবহার করে প্রচার করা হলে তা ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই এই ধরনের প্রচারে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিজেপির দাবি, কলকাতার কালীঘাট সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সহ হোর্ডিং ও পোস্টার দেখা গিয়েছে। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ধরনের প্রদর্শন ভোটের নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রার্থীও। ফলে তাঁর ছবি ব্যবহার করে সরকারি বা আধা-সরকারি জায়গায় প্রচার চালানো সরাসরি নিয়মভঙ্গের মধ্যে পড়ে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি বা প্রচার সামগ্রী জনসমক্ষে রাখা যাবে না, বিশেষ করে যদি তা সরকারি সম্পদ ব্যবহার করে করা হয়। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, অবিলম্বে ওই সব হোর্ডিং, পোস্টার ও ছবি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এখন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।
এদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি, ঠিক প্রায় সেই সময়েই নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বাড়ির সামনে গিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন।
এদিনই নন্দীগ্রামের বিডিওকে ভবানীপুরে আনা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ কার্যত খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। বক্তব্য, পাঁচ বছর আগে কে কোথায় কাজ করেছে তার জন্য এখন তাঁকে অন্য জায়গায় আনা যাবে না এটা হয় না। একজন সরকারি আধিকারিক, তাঁকে কমিশন যেখানে মনে করবে সেখানেই নিয়োগ করতে পারে। আধিকারিক কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নন, তিনি সরকারি আধিকারিক, কমিশন তাঁকে যে কাজ দেবে সেই কাজই তিনি করবেন।