সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত অতিরিক্ত ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্কের আগুন আরও উস্কে দেন মমতা। ময়নাগুড়ির সভা থেকে তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার স্মৃতি জড়ানো সেই সময়কেই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য উদ্দেশ্যে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 March 2026 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের মাটি থেকেই বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার থেকে শুরু হওয়া তাঁর প্রচারের প্রথম দিনেই ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের মাটিগাড়ায় সভা করেন তিনি। প্রতিটি মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের শাসক দল (BJP) এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল নেত্রী।
নিজের বক্তব্যে মমতা তুলে ধরেন প্রশাসনিক স্তরে হঠাৎ বদলির প্রসঙ্গ। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত অতিরিক্ত ভোটার তালিকা (West Bengal SIR Supplementary List 2026) ঘিরে বিতর্কের আগুন আরও উস্কে দেন মমতা। ময়নাগুড়ির সভা থেকে তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার স্মৃতি জড়ানো সেই সময়কেই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে অন্য উদ্দেশ্যে। তাঁর অভিযোগ, সংবিধান এবং মানুষের অধিকার - কোনও কিছুকেই আর মানা হচ্ছে না।
বাংলার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেই কমিশন গভীর রাতে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রথম বাংলার প্রশাসনে এভাবে হস্তক্ষেপ করা হল। তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, যার লক্ষ্য তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা, জব্দ করা।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, ''বিজেপি আর কমিশন মিলে আমার সব কেড়ে নিয়েছে। গ্যাস থেকে পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার হাতে আর কিছু নেই। আমার কিছু করার নেই। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।''
প্রচারে হিংসার ইঙ্গিত নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। প্রার্থীর উপর হামলার হুমকির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ভয় দেখিয়ে নির্বাচন জেতা যাবে না। তাঁর কটাক্ষ, নির্বাচনের পর পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে - আমি বিজেপি করি না!
কমিশনের পাশাপাশি দিল্লির শাসক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও কড়া সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নাম না নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ''এই ভদ্রলোক, আর দিল্লির দুই ভদ্রলোককে বিদায় দিন। না হলে দেশটা বেচে দেবে। বাংলা রাজ্যটাই এঁরা তুলে দিতে চায়। অনেক প্ল্যানিং করেছে, বাংলাকে বিহারের সঙ্গে নিয়ে যেতে চায়।''
মাটিগাড়ার সভা থেকে ফের ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা। তাঁর কথায়, ''মাঝরাতে সবার নাম উড়িয়ে দিয়েছিল কমিশন। গোটা বাংলার লোকই ভ্যানিশ। আমার নামও খুঁজে দেখি অ্যাডজুডিকেশন। এরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই।''
কমিশনের তরফে বলা হয়েছিল এটা টেকনিক্যাল ফল্ট। মমতার পাল্টা প্রশ্ন, আদৌ টেকনিক্যাল ফল্ট, নাকি বজ্জাতি?'' তাঁর এও কটাক্ষ - সবার ভোট ওয়াশিং মেশিনে ঢালছে বিজেপি, ওরা একাই থাকতে চায়, একটা পার্টিই রাখতে চায়। কাউকে থাকতে দেবে না।
সব মিলিয়ে ভোটের আবহে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক লড়াইকে তীব্র করে তুললেন তৃণমূল নেত্রী।