ওয়াইসি বাংলায় পা রাখার পর তৃণমূলকে আর প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়নি। সাংবাদিক বৈঠকে এদিন একের পর ওই প্রশ্নগুলিই ওঠে, যে প্রশ্ন তাঁকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও রয়েছে। তা হল—বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি তিনি বাংলায় এসেছেন? ভোটে লড়ার জন্য তাঁদের কে ফান্ডিং করছেন ইত্যাদি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
শেষ আপডেট: 25 March 2026 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র থেকে বিহার ভোট—অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র (Asaduddin Owaisi) বিরুদ্ধে কংগ্রেস সহ বিরোধীদের বড় অংশের অভিযোগ, তিনি বিজেপির বি-টিম। অথচ সেই অভিযোগ সত্ত্বেও ওয়াইসির অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটছে। এবার বিহার ভোটে ৬টি আসনেও জিতেছে মিম। বুধবার সকালে সেই ঘোড়া ছুটিয়ে ওয়াইসি পৌঁছলেন কলকাতায়। ‘ছোট ভাই’ হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) হাত ধরলেন। তার পর চড়া স্বরে সমালোচনায় নেমে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। তাঁর সাফ কথা,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইদের নমাজে এসে যে দোয়া করেন, তাতে বাংলার মুসলিম গরিব ঘরের মানুষের পেট ভরে কি? তাতে বাংলায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের উন্নতি হয়েছে কি? সবটাই লোক দেখানো নয় কি?’
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সভায় বলেছিলেন, “যদি আমরা না থাকি, একটা কমিউনিটি আছে এক সেকেন্ডে লাগবে.. এক সেকেন্ডে বারোটা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের তেরোটা বাজাতে না চান...।” এদিন সেই প্রসঙ্গে ওয়াইসি বলেন, “আমি শুনেছি উনি বলেছেন যে আমি যদি একদিন না থাকি তাহলে...। কিন্তু এটা তো দম্ভের কথা। এলিটিস্ট কথা। বাংলার মুসলমানরা ওনার ভরসায় নেই। আল্লাহর ভরসায় রয়েছে। ওনার জন্মের আগেও বাংলায় মুসলমানরা ছিলেন, ওনার মৃত্যুর পরেও থাকবেন”। এখানেই না থেমে মিম নেতা বলেন, “উনি যদি মুসলমানদের সঙ্গে থাকতেন তাহলে গোধরার পরেও এনডিএ-তে থাকতেন না। উনি যদি সংখ্যালঘুদের সঙ্গে থাকতেন তাহলে বাংলার মুসলমানদের উন্নতি হত। উনি ক্ষমতার অহঙ্কারে এ কথা বলছেন। ওনার হাতে কোনও মহাজাগতিক ক্ষমতা নেই”।
ওয়াইসি বাংলায় পা রাখার পর তৃণমূলকে আর প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়নি। সাংবাদিক বৈঠকে এদিন একের পর ওই প্রশ্নগুলিই ওঠে, যে প্রশ্ন তাঁকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও রয়েছে। তা হল—বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি তিনি বাংলায় এসেছেন? ভোটে লড়ার জন্য তাঁদের কে ফান্ডিং করছেন ইত্যাদি।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মেধাবী রাজনীতিক। সংসদে ও সংসদের বাইরে তাঁর ক্ষুরধার বক্তৃতায় তা স্পষ্ট বোঝা যায়। এদিনও মিম নেতা যেন প্রস্তুত হয়েই এসেছিলেন। আই ফোন ঘাটতে ঘাটতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি পরের পর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বোঝানোর চেষ্টা করেন মানব সম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলার মুসলমানরা কত পিছিয়ে। তেলঙ্গনার মতো রাজ্যেও উচ্চ শিক্ষায় মুসলিমদের হার অনেক বেশি। বাংলায় মাত্র ৮ শতাংশ। সরকারি চাকরিতে রয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ। বাংলার বেশিরভাগ মুসলমানই স্বনিযুক্ত অর্থাৎ নিজের রোজগারের ব্যবস্থা নিজেকে করে নিতে হয়েছে, চাকরি বাকরি পায়নি।
তবে আসাদউদ্দিনও জানেন হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্স দিয়ে ভারতে ভোট হয় না। ভোটের ভাষা ভিন্ন। মিম নেতা এদিন তাতেও ভালমতোই শান দেন। তিনি বলেন, বাংলায় মুসলমানদের ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র। তাঁদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণ হয়নি। তাঁর লক্ষ্যই হল ক্যাপিটাল পি (P)। মুসলিমদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতাদের প্রসঙ্গও টানেন ওয়েইসি। বলেন, ওঁদের সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। কারও কোনও ক্ষমতা নেই।
ওয়াইসির কথায়, বাংলায় বাম জমানা থেকেই মুসলমানরা পিছিয়ে। সাচার কমিটির রিপোর্টে তা পরিষ্কার বলা হয়েছে। এও বাস্তব যে, যেই রাজ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বে মুসলমান উঠে আসেনি, সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উন্নতিও হয়নি।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীক ‘হুইসল’ উন্মোচন করেন ওয়াইসি। তার পর জানান, ১ এপ্রিল তিনি ফের বাংলায় আসবেন। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর মাঠে সভায় হবে। তবে ওয়াইসি এও জানান, তিনি খুব বেশি আসনে লড়বেন না। মাত্র কয়েকটি আসনে লড়বে মিম। বেশিরভাগ আসনে হুমায়ুনের পার্টি লড়বে। তবে হ্যাঁ অন্তত কুড়ি দিন বাংলায় প্রচার করবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুনদের।
একুশের ভোটের সময়েও বাংলার রাজনীতিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল মিম। সেবার সফল হয়নি। নওশাদ সিদ্দিকিরা তাঁর হাত ধরেননি। এদিন ওয়াইসি তা মেনেও নেন। বলেন, নওশাদরা রাজি হননি, হুমায়ুন হয়েছেন। এটা খুব সহজ কথা। আসল কথা হল, বাংলার মুসলিমদের ক্ষমতায়নের জন্য আমিও লড়াইয়ে সামিল হতে চাইছিলাম। এবার সেই সুযোগ এসেছে।