সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, একুশের এই পবিত্র দিনে তিনি আবারও অঙ্গীকার করছেন - যে কোনও ভাষার উপর আক্রমণ এলে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাঁর কথায়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের বাংলা যেমন সম্মানের, তেমনই সব ভাষাই সমান মর্যাদার দাবিদার।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 February 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে (International Mother Language Day) ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কড়া অবস্থান জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনও ভাষার উপর আঘাত নেমে এলে তা প্রতিহত করতে সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers Attack) উপর হামলা ও বাংলার মনীষীদের অবমাননার প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজনৈতিক বার্তাও দেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরাসরি নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যের নিশানা ছিল ভারতীয় জনতা পার্টির দিকেই।
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, একুশের এই পবিত্র দিনে তিনি আবারও অঙ্গীকার করছেন - যে কোনও ভাষার উপর আক্রমণ এলে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাঁর কথায়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের বাংলা যেমন সম্মানের, তেমনই সব ভাষাই সমান মর্যাদার দাবিদার। তিনি জানান, তাঁর সরকারের আমলে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগুকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। হিন্দি আকাদেমি, রাজবংশী ভাষা আকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি ও সাঁওতালি আকাদেমি গঠনের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি দাবি করেন, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই পুণ্যদিনে সম্মান জানাই বিশ্বের সকল ভাষা ও ভাষাভাষী মানুষকে। বিশ্বের সকল দেশের সকল ভাষা-শহিদদের ও ভাষা-সংগ্রামীদের জানাই আমার প্রণাম ও অন্তরের শ্রদ্ধা।
রবীন্দ্রনাথ - নজরুল - সুকান্ত - জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। এটা…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 21, 2026
২১ ফেব্রুয়ারির - ১৯৫২ সালের এই দিনটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের গুলিতে শহিদ হন একাধিক তরুণ। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে সেই আত্মত্যাগ আজও বাঙালির আবেগে অমলিন।
এদিকে বাংলাদেশে রাত বারোটা পেরিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন, পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের পর শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধী দলনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান সহ ১১ জোটের নেতারা। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের পক্ষ থেকে এবারই প্রথম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হল।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এবং ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গান দুটি পরিবেশিত হয়। উল্লেখ্য, গত বছর এই দুই কালজয়ী গান না বাজানোয় বাংলাদেশে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।