এই বৈঠকেই অভিষেক বলেন, বাংলায় শুধু মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের এই হাবভাবের কারণেই জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে রোববার রাজ্যজুড়ে ব্লকভিত্তিক র্যালির আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 January 2026 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু জায়গায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancies) নোটিস ঠিকমতো টাঙানো হয়নি, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। এক লক্ষেরও বেশি জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে এমনই অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
শনিবার বিকেল ৪টে থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক। রাজ্যজুড়ে এক লক্ষেরও বেশি জনপ্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ–২), সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের কর্মী এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই অভিষেক বলেন, বাংলায় শুধু মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের এই হাবভাবের কারণেই জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে রোববার রাজ্যজুড়ে ব্লকভিত্তিক র্যালির আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংগঠনের তরফে এই কর্মসূচি সফল করতে সব স্তরের কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এদিন বৈঠকের শুরুতেই অভিষেক বলেন, “অপরিকল্পিত এসআইআর-এর জেরে এখনও পর্যন্ত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আইন মেনেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।” তাঁর দাবি, তিনি নিজে-সহ তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন। সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ উপস্থিত থাকলেও, তাঁদের প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
অভিষেকের আরও দাবি, এসআইআর-এর ফলে ১.৩৬ কোটি ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর তিনি বলেন, “দেশ ও বাংলার গর্ব অমর্ত্য সেন, মহম্মদ সামির মতো ক্রীড়াবিদ, এমনকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যরাও এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকেননি।”
শুধু তাই নয়, শুনানির সময় তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ–২)দের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “সব রাজনৈতিক দল হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশ মেনে নিয়েছে, কিন্তু আমরা মানিনি। নির্বাচন হোয়াটসঅ্যাপে লড়া যায় না।” বিএলএ–২দের উপস্থিতির দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিক দফায় তর্কাতর্কির কথাও জানান তিনি।
এছাড়াও অভিষেক অভিযোগ করেন, বহু জায়গায় নোটিস ঠিকমতো টাঙানো হয়নি, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। বাংলায় শুধু মাইক্রো অবজার্ভার মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই তাঁর কটাক্ষ, “এই কারণেই আমরা বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী’ বলি।”
এদিনের বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সি। তাঁর বক্তব্য, যেভাবে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টও তাদের রায়ে তৃণমূলের উত্থাপিত সমস্যাগুলির যৌক্তিকতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।