কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরুলিয়া থেকে অতীত–বর্তমানের তুলনা টেনে উন্নয়ন ও শান্তির খতিয়ান তুলে ধরে এবারের ভোটে পুরুলিয়াকে বিজেপি শূন্য করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee at the Purulia meeting)।
সভামঞ্চ থেকেই ২০১১ সালের আগে পুরুলিয়ার অশান্ত অতীতের ছবি তুলে ধরেন তিনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথা মনে করানোর পাশাপাশি জঙ্গলমহলে একসময়কার মাওবাদী নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের দাবি, সেই ভয়াল দিন পেরিয়ে আজ এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক ছন্দ ফিরেছে।
কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, "বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে"।
তার পরেই মোদী-শাহকে নিশানা করে আরও তীব্র আক্রমণ। অভিষেক স্মরণ করান, ১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে সিপিএমের হাতে খুন হতে হয়েছিল। প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কটি মাওবাদী নাশকতা হয়েছে, কজন মানুষের প্রাণ গিয়েছে?
তাঁর কটাক্ষ, “মোদীবাবু, অমিত শাহ, জ্যোর্তিময় সিং মাহাত (পুরুলিয়ার সাংসদ)—যাঁরা আজ বড় বড় ভাষণ দেন, ২০১১ সালের আগে পুরুলিয়ার মাটিতে তাঁদের টিকিটা খুঁজে পাওয়া যেত না। আজ এসে শান্তি-শৃঙ্খলার কথা বলছেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও মাওবাদী-সিপিএমের বোমা-বন্দুকের নীচে মাথা নিচু করেই বাঁচতে হত!"
বাম থেকে বিজেপিতে রূপান্তর নিয়েও আক্রমণ শানান তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, পুরুলিয়ায় যাঁরা বাম ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপি। ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ টেনে অভিষেক বলেন, লাল মানে থামো, গেরুয়া মানে ধীরে চলো, আর সবুজ মানে এগিয়ে চলো। বাম আমলের ‘হার্মাদ’দেরই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “নতুন বোতলে পুরনো মদ।” নিজের দাবির স্বপক্ষে একাধিক প্রাক্তন সিপিএম নেতার নামও উল্লেখ করেন তিনি, যাঁরা বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বে।
এর পরেই পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। মোদী সরকারের ১১ বছরে সাংসদ হিসেবে এলাকার জন্য কী উন্নয়ন হয়েছে—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে রেলের হালচাল নিয়েও কটাক্ষ করেন। চক্রধরপুর এক্সপ্রেস, পুরুলিয়ার এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলির নিয়মিত ৮-১০ ঘণ্টা দেরিতে চলার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, তা হলে এত বছরে সাংসদ কী করলেন? ট্রেন লেটের সমস্যা নিয়েও যাঁর কোনও উদ্যোগ নেই, তিনি নাকি উন্নয়নের কথা বলবেন?”
একই সঙ্গে অভিষেক বলেন, নির্বাচনের তিনমাসের মধ্যে পুরুলিয়ায় এই ট্রেনের লেট রান আমরা বন্ধ করবই। রাত ১০টার ট্রেনে পরের দিন ভোরে পৌঁছবে, এ জিনিস বরদাস্ত করব না।
আসন্ন বিধানসভা ভোটে জেলার ৯টি বিধানসভা আসনে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন অভিষেক। জানান, এক মাস পর আবার পুরুলিয়ায় আসবেন। যে অঞ্চলে যেতে বলা হবে, সেখানেই যাবেন। পাশাপাশি, যাঁরা তৃণমূলকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভোটের মাধ্যমেই শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চতুর্থবারের তৃণমূল সরকার গঠনে পুরুলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, "আমি এক কথার ছেলে। জানি এখানকার মানুষের অনেক দাবি এখনও পূরণ হয়নি। স্থানীয় কিছু নেতার কারণে তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না প্লিজ। কথা দিয়ে যাচ্ছি, পুরুলিয়ার সব আসনে তৃণমূল জিতলে ৬ মাসের মধ্যে আপনাদের সব দাবি পূরণের চেষ্টা করব।"
এখানেই না থেমে ভোটের সময় বিজেপি টাকা দিতে এলে কী করতে হবে, তাও বাতলে দেন অভিষেক। সভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, "ভোটের সময় বিজেপি টাকা দিতে এলে দর কষাকষি করবেন! এক হাজার টাকা দিতে এলে ১০ হাজার চাইবেন। পদ্ম ফুল থেকে টাকা নিয়ে জোড়া ফুলে ভোট দিন, যাতে ভোট বাক্স খুললে ওরা চোখে সর্ষে ফুল দেখে!"