কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে এদিন বারাসতের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সর্বোচ্চ আদালত। কোর্টে হেরেছে, এবার ভোটে হারাব।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 January 2026 20:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-র সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলীয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের তরফে এই মর্মে ই-মেল (email) পাঠানো হয়েছে। অভিষেক-সহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, ওই দিনই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন সিইও।
এসআইআর-এর (SIR) দ্বিতীয় পর্বে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepancy Issue) ঘিরে রাজ্যজুড়ে যে উত্তেজনা ক্রমশ চড়ছে, তার মধ্যেই এই আবেদনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সোমবার এই লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশের পরই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে শাসকদল।
কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে এদিন বারাসতের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সর্বোচ্চ আদালত। কোর্টে হেরেছে, এবার ভোটে হারাব।” আদালতের নির্দেশকে হাতিয়ার করে শাসকদলের এই আক্রমণ যে আরও ধারালো হচ্ছে, তা স্পষ্ট।
এই আবহেই সিইও-র সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ চাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শাসকদলের সূত্রে স্পষ্ট, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন ও আপত্তি তুলে ধরতেই এই বৈঠকের আর্জি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন অভিষেক। সেই বৈঠকে একাধিক প্রশ্ন তুললেও কমিশনের তরফে কোনও সদুত্তর মেলেনি বলেই পরে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচি থেকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছে। একই সুরে কমিশনকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আদালতের নির্দেশ, কমিশনের ভূমিকা এবং শাসকদলের ক্রমবর্ধমান আক্রমণের প্রেক্ষিতে সিইও-র সঙ্গে সম্ভাব্য এই বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়ল বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।