রবিবার সকালে স্বেতীঝরার কাছে ধস নামায় রাস্তার একটি বড় অংশ তিস্তা নদীতে ভেঙে পড়ে যায়। এর ফলে বাংলা ও সিকিমের মধ্যে যাতায়াতকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সমস্ত রকম ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সড়কে ধস
শেষ আপডেট: 3 August 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। পাহাড় ও সমতলে একইসঙ্গে ধস, নদীভাঙন ও জলবন্দি পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মানুষ। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে (Landslide iun National Highway)। রবিবার সকালে স্বেতীঝরার কাছে ধস নামায় রাস্তার একটি বড় অংশ তিস্তা নদীতে ভেঙে পড়ে যায়। এর ফলে বাংলা ও সিকিমের মধ্যে যাতায়াতকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সমস্ত রকম ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাংলা ও সিকিমের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থেকেই ওই এলাকায় রাস্তার গায়ে ফাটল দেখা গিয়েছিল। রবিবার সকালে সেই ফাটল ভয়াবহ রূপ নেয়। ধসের ফলে রাস্তার বড় অংশ গিলে নেয় তিস্তা। ফলে বিপাকে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও।
শুধু জাতীয় সড়ক নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেই লাগাতার বর্ষণের জেরে জলবন্দি অবস্থা। জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ির কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই তিস্তার জল ঢুকে পড়েছে। তিস্তা ও তোর্সা নদীর জন্য হলুদ সংকেত জারি করেছে সেচ দফতর। এদিকে আগামী দু'দিন উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে বলেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর (Weather Forecast)।
আলিপুরদুয়ারে রাতভর রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫২ মিলিমিটার। এর ফলে ডিমা, কালজানি, রায়ডাক নদীতে জল বেড়েছে। নদীগুলির জল প্রবল বেগে বইতে শুরু করেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের (North Bengal Disaster) উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। তার প্রভাবেই এই টানা বর্ষণ। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি থামবে না। নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে, ফলে নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
পাহাড়িএলাকায় ধস, নদীভাঙন ও জলবন্দি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।