আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বরং গরমের দাপট বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ফের সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছেন বহু মৎস্যজীবী।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমেছে। এরই মধ্যে সাগরে ট্রলার নিয়ে ফের পাড়ি জমিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় নতুন করে ইলিশ ধরার অভিযান শুরু হয়েছে (Hilsa Fish in market)। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই মাছের বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে বলে আশাবাদী মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
বছরের এই সময়টাতে, শ্রাবণ মাসে সাধারণত বাজারে ইলিশের জোয়ার দেখা যায়। কিন্তু এবার মরশুমের অর্ধেক কেটে গেলেও বাজারে সে রকম ইলিশ দেখা যায়নি। মূলত নিম্নচাপ ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে বহুদিন ট্রলার যেতে পারেনি গভীর সমুদ্রে। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ-সহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকাগুলি থেকেও খুব বেশি ইলিশ ওঠেনি।
মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির দাবি, সমুদ্রে ‘মরা কটাল’ ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে বিগত কয়েক সপ্তাহ ইলিশের দেখা খুব কম মিলেছে (Hilsa Fish Supply)। গত জুন মাসের মাঝামাঝি একবার ২৫ টনের মতো ইলিশ নিয়ে ট্রলার ফিরেছিল, তারপর দীর্ঘ সময় জোগানে টান পড়ে। যদিও গত সপ্তাহে প্রায় ৪০০ টন ইলিশ নিয়ে ট্রলার ফিরে আসে, তবে সেই সময়ও আবহাওয়ার খামখেয়ালির কারণে অনেকেই মাঝপথে ফিরে এসেছিলেন।
এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বরং গরমের দাপট বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে ফের সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছেন বহু মৎস্যজীবী। আগামী সোম বা মঙ্গলবার নাগাদ ট্রলারগুলি বন্দরে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের আশা, এইবার সাগর থেকে খালি হাতে ফিরতে হবে না। নতুন করে ইলিশের দেখা মিলবে বলেই তাঁরা আশাবাদী। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যের বাজারে রুপোলি শস্যের জোগান কিছুটা হলেও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যার জেরে দামও হয়তো খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, টানা নিম্নচাপ আর তার জেরে লাগাতার বর্ষণ, গত দেড় মাস ধরে গোটা রাজ্য কার্যত ভাসছে। আর সেই ভেসে যাওয়া পরিস্থিতি টানছে মধ্যবিত্তের পকেটের সঞ্চয়ও। সবজির দাম আগুন, ফুলকপি, বেগুন, পটল থেকে কাঁকরোল, শশা, উচ্ছে, সব কিছুরই হু-হু করে দাম বাড়ছে। রবিবার সকালে বাজারে পা দিতেই দাম শুনে চোখ কপালে মধ্যবিত্তদের।
ফুলকপি, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ৩০ টাকা পিসে পাওয়া যাচ্ছিল, এখন সেই কপি কিনতে দিতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পটল ৪০-৫০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন ৭০-৮০ টাকায়। বড় বেগুনের তো আর কথাই নেই, কোথাও কোথাও ১০০ টাকাও ছাড়িয়েছে।
উচ্ছে, কাঁকরোল, শশা, ওল, এদেরও কেজি প্রতি দর ৭০-৮০ টাকার ঘরে। ঢ্যাঁরশ মিলছে ৮০ টাকা কেজিতে। শীতকালীন প্রিয় সবজি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা পিস দরে। আর টমেটো, যা নিয়ে এক সময় রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ছিল, তা এখন কলকাতায় বিকোচ্ছে ৭০-১০০ টাকা কেজিতে।
লঙ্কার দাম শুনে এদিন সকালে অবাক হয়েছেন অনেকে। লঙ্কা ছাড়াই বাজারের থলি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে এই সবজি।