এই বাস পরিষেবা শুরু হলে কবি সুভাষ স্টেশন থেকে যাত্রীরা সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে, সেখান থেকে মেট্রো ধরতে পারবেন। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'নিত্যযাত্রীদের কথা ভেবেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 August 2025 21:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিলারে ফাটল, সংস্কারের জন্য আগামী এক বছর বন্ধ থাকতে পারে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন (Kavi Subhash Metro Station)। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা প্রবল। হাজার হাজার নিত্যযাত্রী সমস্যায় পড়তে চলেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এল রাজ্য পরিবহণ দফতর। কবি সুভাষ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত শাটল বাস চালু করতে চলেছে তাঁরা। আগামী সোমবার থেকেই এই পরিষেবা শুরু হবে।
পরিবহণ দফতর জানিয়েছে, সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাটল বাস চলবে প্রতিদিন। সকাল ও সন্ধ্যা, দু’টি নির্দিষ্ট সময়ে মিলবে পরিষেবা। সকাল ৮টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বাস চালানো হবে। প্রতিটি বাসে ৩২ জন করে যাত্রী বসতে পারবেন। ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ১০ টাকা।
এই বাস পরিষেবা শুরু হলে কবি সুভাষ স্টেশন থেকে যাত্রীরা সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে, সেখান থেকে মেট্রো ধরতে পারবেন। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'নিত্যযাত্রীদের কথা ভেবেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্টেশন বন্ধ থাকায় অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন, তাই আগেভাগেই এই পদক্ষেপ।'
উল্লেখ্য, কবি সুভাষ স্টেশন দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এখানে মেট্রোর পাশাপাশি রেল ও বিভিন্ন বাস পরিষেবা রয়েছে। ফলে স্টেশনটি বন্ধ থাকলে বড়সড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
গত সোমবার থেকে কবি সুভাষ মেট্রোর পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে। পিলারে ফাটল ধরা পড়ার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। তবে এখন জানা যাচ্ছে, শুধু কয়েকটি পিলার নয়, গোটা স্টেশন ভবনের অবস্থা খতিয়ে দেখে একেবারে নতুন করে নির্মাণ করার পথে হাঁটছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক বাজেট, প্রায় ৯ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা।
জানা গিয়েছে, কবি সুভাষ স্টেশনে মোট ২১টি পিলার রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪টিতে ধরা পড়েছে গভীর ফাটল। আরও কয়েকটি পিলারে হালকা চিড় রয়েছে বলে জানাচ্ছেন অভ্যন্তরীণ কর্মীরা। শুধু তাই নয়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ছাদ ও দেওয়ালের অবস্থাও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মেট্রো সূত্রে খবর, এবার সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে গোটা স্টেশন। ইতিমধ্যেই ই-টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আর এই কাজ শেষ হতে সময় লাগবে অন্তত ৯ থেকে ১০ মাস। সেক্ষেত্রে পুরো কাজ শেষ করে নতুন করে এই মেট্রো স্টেশন চালু করতে এক বছরও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন খোদ মেট্রোর কর্তারা। এখন যাত্রীরা আশাবাদী, শাটল বাস পরিষেবায় অন্তত কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে।