ন্যায়বিচার যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই কারণেই বগটুই মামলার শুনানি অন্যত্র সরানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে সিবিআই আদালতকে জানায়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 August 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বগটুই কাণ্ডের (Bogtui Case) বিচার বীরভূমে স্বচ্ছভাবে সম্ভব নয়— শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে সিবিআই-এর আইনজীবী জানান, মামলার সাক্ষী ও অভিযুক্ত— সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা। আর অভিযুক্তদের প্রভাব গোটা জেলায় বিস্তৃত।
সিবিআই-এর অভিযোগ, "অভিযুক্তরা শুধু প্রভাবশালী নন, তাঁরা ডাক ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। অর্থাৎ, হাইওয়েতে গাড়ি আটকে তোলা আদায়ের মতো বেআইনি কার্যকলাপে লিপ্ত। এমনকি, সাক্ষীরা যখন আদালতে যান, তখন অভিযুক্তদের সমর্থকেরা আদালতের ভিতরে-বাইরে ভিড় জমিয়ে একটা ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করেন। যার ফলে সাক্ষীরা মুক্তভাবে মুখ খুলতে পারেন না।"
এই অবস্থায় ন্যায়বিচার যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই কারণেই বগটুই মামলার শুনানি অন্যত্র সরানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে সিবিআই আদালতকে জানায়।
২০২২ সালের ২১ মার্চ রামপুরহাটের বগটুই মোড়ে বোমার আঘাতে খুন হন বুড়িশোল পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ। তার পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা হামলা চলে গ্রামে। অভিযোগ, ভাদুর অনুগামীরা একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ১০ জনের, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মহিলা ও শিশু।
হাইকোর্টের নির্দেশে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিবিআই। প্রথম দফায় সংস্থা ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন তৎকালীন ব্লক তৃণমূল সভাপতি আনারুল হোসেনও।
সিবিআই-এর এই আবেদনে আদালত সাড়া দিলে বগটুই কাণ্ডের বিচার বীরভূমের বাইরে অন্য কোনও আদালতে স্থানান্তরিত হবে। এতে তদন্তে গতি আসবে কি না— সে দিকেই তাকিয়ে গোটা জেলা।