বিক্রেতারা বলছেন, এই দরবৃদ্ধির জন্য দায়ী প্রকৃতি। নিম্নচাপের কারণে বিগত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে হয়েছে তুমুল বৃষ্টি। বহু এলাকায় ডুবে গিয়েছে জমি, নষ্ট হয়েছে ফসল। ধ্বংস হয়েছে সবজি চাষ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা নিম্নচাপ আর তার জেরে লাগাতার বর্ষণ, গত দেড় মাস ধরে গোটা রাজ্য কার্যত ভাসছে। আর সেই ভেসে যাওয়া পরিস্থিতি টানছে মধ্যবিত্তের পকেটের সঞ্চয়ও। সবজির দাম আগুন, ফুলকপি, বেগুন, পটল থেকে কাঁকরোল, শশা, উচ্ছে, সব কিছুরই হু-হু করে দাম বাড়ছে। রবিবার সকালে বাজারে পা দিতেই দাম শুনে চোখ কপালে মধ্যবিত্তদের।
কলকাতা হোক বা বাঁকুড়া, হাবড়া হোক বা মালদহ, দাম সর্বত্র ঊর্ধ্বমুখী
ফুলকপি, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ৩০ টাকা পিসে পাওয়া যাচ্ছিল, এখন সেই কপি কিনতে দিতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পটল ৪০-৫০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন ৭০-৮০ টাকায়। বড় বেগুনের তো আর কথাই নেই, কোথাও কোথাও ১০০ টাকাও ছাড়িয়েছে।
উচ্ছে, কাঁকরোল, শশা, ওল, এদেরও কেজি প্রতি দর ৭০-৮০ টাকার ঘরে। ঢ্যাঁরশ মিলছে ৮০ টাকা কেজিতে। শীতকালীন প্রিয় সবজি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা পিস দরে। আর টমেটো, যা নিয়ে এক সময় রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ছিল, তা এখন কলকাতায় বিকোচ্ছে ৭০-১০০ টাকা কেজিতে।
লঙ্কার দাম শুনে এদিন সকালে অবাক হয়েছেন অনেকে। লঙ্কা ছাড়াই বাজারের থলি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে এই সবজি।
বিক্রেতারা বলছেন, এই দরবৃদ্ধির জন্য দায়ী প্রকৃতি। নিম্নচাপের কারণে বিগত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে হয়েছে তুমুল বৃষ্টি। বহু এলাকায় ডুবে গিয়েছে জমি, নষ্ট হয়েছে ফসল। ধ্বংস হয়েছে সবজি চাষ। তাই কমে গিয়েছে জোগান, আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চড়চড় করে বেড়েছে দাম।
কসবার একটি বাজারের বিক্রেতা বলছেন, 'সবজির আকাল বাজারে, কিছুই তেমন ভাল পাওয়া যাচ্ছে না। যা মিলছে তা আমাদেরই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ফলে দাম কমানোর সম্ভাবনা নেই। আমাদের হাতেও নেই কিছু।'
এদিকে ক্রেতাদের প্রশ্ন, 'রাজ্য সরকার তো বলেছিল বাজার মনিটরিং করবে। কোথায় গেল সেই টাস্ক ফোর্স? বিক্রেতারা যা খুশি দাম হাঁকাচ্ছে।'
গড়িয়াহাট বাজারের এক ক্রেতা বলছেন, 'হাজার টাকায় আর কিছু হচ্ছে না। ৪-৫ এর সংসারে খেতেই সব টাকা চলে যাচ্ছে। কীভাবে চলবে কে জানে। মাইনে তো বাড়ছে না, উল্টে খরচা আকাশছোঁয়া।'