তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “চিন্তা নেই, আমরা গুলি-বন্দুক নিয়ে নামব না। আমরা শঙ্খ বাজাব, কাঁসর-ঘণ্টা বাজাব। আমাদের প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু বজ্রনিনাদে।”
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 July 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম বাদ? বাংলায় তা চলবে না। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বোলপুরে ভাষা আন্দোলনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় যদি কারও নাম বাদ যায়, তাহলে দামামা বাজবে। ছৌ নাচ দেখবেন, ধামসা-মাদল বাজবে, শঙ্খ, উলুধ্বনি হবে। আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। দরকার হলে জীবন দেব, কিন্তু বাংলার মাটি থেকে ভাষা ও ঠিকানা কেড়ে নিতে দেব না।”
মঞ্চ থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “সরকারের হয়ে এখন কমিশন এনআরসি খেলায় নেমেছে। মানুষের ঠিকানা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বাংলার ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।”
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “চিন্তা নেই, আমরা গুলি-বন্দুক নিয়ে নামব না। আমরা শঙ্খ বাজাব, কাঁসর-ঘণ্টা বাজাব। আমাদের প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু বজ্রনিনাদে।”
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা এও বলেন, “ভাবছো ক্ষমতায় আছো বলে যা খুশি করবে? মনে রেখো, তোমাদের সরকার ২০২৯ অবধি চলবে না”। কটাক্ষের সুরে এও বলেন, “জমিদারি! যেন দেশটা শুধু ওদের! আমি বলে রাখছি, জমিদারি মানুষের, তোমাদের নয়। ট্রাম্পবাবু তো হাত-পা বেঁধে দুটো প্লেনে তুলে তোমাদের লোককে গুজরাটে পাঠিয়ে দিল, কেউ প্রশ্ন করল না। বাংলার কেউ ছিল না, কারণ আমরা মাথা নিচু করি না।”
গুজরাটে বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে হওয়া বৈষম্যের কথা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা যখন আপনাদের চায় না, তাহলে ওখানে থাকার কী দরকার? চলে আসুন, আমরা কাজের ব্যবস্থা করে দেব। একটা রুটি থাকলে ভাগ করে খাব।”
তিনি দাবি করেন, বাংলায় এখন দেড় কোটির বেশি হিন্দিভাষী পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। “তাদের কখনও বাংলা ছাড়তে বলিনি। বাংলা সবকে আশ্রয় দেয়, আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না। কিন্তু কেউ যদি বাঙালির ঠিকানা কেড়ে নিতে আসে, আমরা পেছু হাঁটিয়ে ছাড়ব,”— বলেন মমতা।
বাংলার ভাষা, পরিচয়, সংস্কৃতি— এই সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে গর্ব ও অস্তিত্বের অংশ। সেই পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রতিবাদ যে তীব্র হবে, সেই বার্তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল নেত্রী।