ত্রিপুরার ৩৩ বছরের এক গাড়িচালকের জটিল হৃদ্রোগ সারিয়ে পূর্ব ভারতে প্রথমবার সফল হল কমপ্লিট ফিজিওলজিকাল পেসিং। নেতৃত্বে ছিলেন ডা. দিলীপ কুমার।

ডক্টর দিলীপ কুমার।
শেষ আপডেট: 23 June 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা শহরে হৃদ্রোগ চিকিৎসার মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক। এক অনন্যসাধারণ হার্ট পেসিং পদ্ধতি— 'কমপ্লিট ফিজিওলজিকাল পেসিং’-এ প্রাণ বাঁচল ত্রিপুরার এক যুবকের। পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে এই পেসিং প্রথমবার সম্পন্ন হল মণিপালের মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. দিলীপ কুমারের নেতৃত্বে।
ডাক্তারবাবু জানাচ্ছেন, এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে একই সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে বাচম্যানস্ বান্ডেল পেসিং এবং লেফট বান্ডেল ব্রাঞ্চ এরিয়া পেসিং (LBBAP)— এই দুটি অত্যাধুনিক কৌশল। এমন যুগ্ম পেসিং প্রয়োগের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রে স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ছন্দ ফিরিয়ে আনা যায় আরও নিখুঁত ও প্রাকৃতিক উপায়ে। সাধারণ পেসমেকারের তুলনায় এটি অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।
জানা গেছে, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার ৩৩ বছর বয়সি রবি (নাম পরিবর্তিত) পেশায় একজন গাড়িচালক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুগছিলেন সিক সাইনাস সিনড্রোম, ইন্টারমিটেন্ট এট্রিওভেন্ট্রিকুলার (এভি) ব্লক এবং প্যারক্সিসমাল অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন-এর মতো জটিল হৃদ্রোগে। কখনও তাঁর হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে মাত্র ২৫ বিটে নেমে আসছিল। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরাও অনুভূত হচ্ছিল। সব মিলিয়ে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দই হারিয়ে যাচ্ছিল তাঁর জীবন থেকে।
রবির এই জটিল হার্ট কন্ডিশনের চিকিৎসা করতে গিয়ে ডা. দিলীপ কুমার এবং তাঁর টিম এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা একইসঙ্গে দুটি বিশেষ পেসিং কৌশল ব্যবহার করেন। এই অস্ত্রোপচারে তাঁরা C315S5 ক্যাথেটার ব্যবহার করেন, যার সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পেসিং লিড স্থাপন করা হয়।
এর ফলাফল ছিল অভাবনীয়। রবির হৃদ্যন্ত্রে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে। সেই সঙ্গে, সাধারণ পেসমেকার থেকে যে সব জটিলতা দেখা দিতে পারে যেমন, হার্ট ফেইলিওর, নতুন অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা পেসিং-জনিত কার্ডিওমায়োপ্যাথি, সেগুলোর আশঙ্কাও অনেকাংশে কমে যায়।
অস্ত্রোপচারের পরের দিন থেকেই রবি নিজেকে অনেক হালকা ও স্বাভাবিক অনুভব করেন। তাঁর কথায়, 'আমি এতদিন হাঁটতেও পারতাম না, শ্বাস নিতে কষ্ট হত, মাথা ঘুরত। আজ সেই যন্ত্রণার দিন শেষ। এখন হাঁটাচলা করতে পারছি, স্বাভাবিক জীবনে ফিরছি। আমি চিরঋণী ডা. দিলীপ কুমার এবং তাঁর গোটা চিকিৎসা টিমের কাছে। নার্সরা যে যত্ন করেছেন, সেটাও ভুলতে পারব না।'
ডা. দিলীপ কুমার বলেন, 'গত কয়েক বছরে আমরা ২০০-রও বেশি কন্ডাকশন সিস্টেম পেসিং করেছি। কিন্তু এটি আমাদের প্রথম সম্পূর্ণ ফিজিওলজিকাল পেসিং, যা ভারতের হৃদরোগ চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। আমরা গর্বিত যে এই প্রযুক্তি পূর্ব ভারতেও এখন বাস্তব।'
মণিপাল হাসপাতাল (ইস্ট)-এর রিজিওনাল সিওও ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, 'এই প্রক্রিয়া শুধুই একটি চিকিৎসা নয়, এটি একটি মাইলফলক। চিকিৎসা খাতে আমরা কেবল বিস্তারে নয়, মান এবং উদ্ভাবনেও এগিয়ে। আমরা চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সর্বোচ্চ মানের হার্ট কেয়ার সুবিধা পান। এই সাফল্য আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।'