শ্বাসকষ্ট ও মাত্র ৮৫% অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে এক প্রবীণাকে নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতার বি এম বিরলা হার্ট হাসপাতালে।

ফুসফুসে ফিসচুলা!
শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বাসকষ্ট ও মাত্র ৮৫% অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে এক প্রবীণাকে নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতার বি এম বিরলা হার্ট হাসপাতালে। মাসের পর মাস ধরে উপসর্গ চললেও সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি ঘটেছিল। এরপরেই শুরু হয় এক বিরল এবং ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায় রোগির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রাথমিক পরীক্ষায় তেমন কিছু ধরা না পড়লেও কার্ডিয়োলজিস্ট ডঃ অনিল মিশ্রের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসা-প্রতিভা কাজে লাগে। সাধারণ প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে তিনি দ্রুত নির্দেশ দেন সিটি পালমোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির। সেই রিপোর্টেই প্রকাশ পায় এক বিরল রোগ—পালমোনারি আর্টেরিওভেনাস ফিস্টুলা, যেখানে পালমোনারি ধমনী ও শিরার মধ্যে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে, ফলে ফুসফুসে অক্সিজেন পৌছানো সম্ভব হচ্ছিল না।
এই বয়সে ছুরি দিয়ে অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ডঃ মিশ্র ও তাঁর দল বেছে নেন ক্যাথেটার-ভিত্তিক মিনি ইনভেসিভ পদ্ধতি। ক্যাথ ল্যাবে রিয়েল টাইম ইমেজিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা সনাক্ত করেন ডান মধ্য লোব ধমনী থেকে উপরের পালমোনারি শিরায় অস্বাভাবিক সংযোগ। একটি ভাস্কুলার প্লাগ ব্যবহার করে সেই ফিস্টুলা বন্ধ করা হয় ট্রান্সক্যাথেটার পদ্ধতিতে।
অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগির অক্সিজেন মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ শতাংশে। কোনও বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই তাঁকে স্বাভাবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়।
রোগি ও তাঁর পরিবারের কাছে এই সাফল্য ছিল এক নতুন জীবনের সমান। এটি শুধুমাত্র এক চিকিৎসা কাহিনি নয়, বরং এক দৃষ্টান্ত—যেখানে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, অভিজ্ঞতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি মিলেই তৈরি করে সুস্থতার পথ। বি এম বিরলা হার্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনই দেখিয়ে দিল, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে জীবন ফেরাতে।