বয়স ৮১। এমন বয়সে যেখানে জীবনের গতি থেমে যায়, সেখান থেকেই নতুন করে জীবন ফিরে পেলেন দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা শান্তা রায় (নাম পরিবর্তিত)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 June 2025 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ৮১। এমন বয়সে যেখানে জীবনের গতি থেমে যায়, সেখান থেকেই নতুন করে জীবন ফিরে পেলেন দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা শান্তা রায় (নাম পরিবর্তিত)। সিগময়েড কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। বয়স ও শারীরিক জটিলতা মাথায় রেখে অস্ত্রোপচার নিয়ে যখন দোটানায় পরিবার, তখন আশার আলো দেখায় কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতাল।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষমেশ পৌঁছন সিএমআরআই-তে, যেখানে ক্যানসার ও রোবোটিক সার্জারির পরামর্শদাতা ডঃ এস. কে. বালা রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, তাঁর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হবে রোবটিক সিগময়েড কোলেকটমি। এই পদ্ধতিতে ব্যথা কম, আরোগ্য দ্রুত এবং জটিলতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকে।
তবে অস্ত্রোপচারের একদিন আগে দেখা যায়, শান্তা দেবীর দুই হাতে রক্তচাপের গুরুতর ফারাক। পরে CT অ্যাঞ্জিওগ্রাফিতে ধরা পড়ে বাম সাবক্লেভিয়ান ধমনীতে রক্ত জমাট, যা অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র হয়তো এমন পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার স্থগিত করত। তবে সিএমআরআই-র মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম—কার্ডিয়াক, ভাসকুলার এবং অ্যানাস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় ঝুঁকি মোকাবিলা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। ছয় ঘণ্টার জটিল রোবটিক অপারেশনে সাফল্যের সঙ্গে টিউমার বাদ দেওয়া হয়। অপারেশনের পরদিনই হাসিমুখে বিছানায় বসে চা খেতে দেখা যায় শান্তা দেবীকে—যা চিকিৎসকদের কাছে এক আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
পাঁচদিনের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরেন তিনি। ব্যথা ছিল সামান্য, ওষুধের প্রয়োজনও ছিল খুবই কম। ঘটনার প্রসঙ্গে ডঃ বালা বলেন, “বয়স কখনওই মানসম্মত চিকিৎসার পথে বাধা হতে পারে না। রোবটিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ টিমের সহায়তায় প্রবীণ ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসাও নিরাপদে করা সম্ভব।”