সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 June 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম করে অন্তর্বাস বদলানো। বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি, তবু অবহেলা করি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য ভুল পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা নিয়মিত টাইট-ফিটিং অন্তর্বাস পরেন, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায় কম হয়। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায়।
.jpeg)
গবেষণা অনুযায়ী, যাঁরা বক্সার বা ঢিলেঢালা শর্টস পরেন, তাঁদের শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও গুণমান তুলনায় অনেকটাই ভাল। ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের (FSH) মাত্রাও এই পুরুষদের ক্ষেত্রে কম পাওয়া গেছে, যা শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন। গবেষকদের মতে, টাইট অন্তর্বাস পরলে অণ্ডকোষ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, ফলে শুক্রাণু উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয়।
.jpeg)
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের বিজ্ঞানী লিডিয়া মিঙ্গুয়েজ-আলারকন। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের ধরন দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিষয়টি নিয়ে আরও সুস্পষ্ট ধারণা মিলেছে।
.jpeg)
২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে আসা ১৮ থেকে ৫৬ বছর বয়সি ৬৫৬ জন পুরুষের উপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া পুরুষদের বীর্য ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তাঁদের অন্তর্বাস ব্যবহারের অভ্যাস জানার জন্য প্রশ্ন করা হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, যাঁরা ঢিলেঢালা বক্সার ব্যবহার করেন, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব টাইট অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ২৫% বেশি, শুক্রাণুর সংখ্যা ১৭% বেশি এবং চলমান শুক্রাণুর হার ৩৩% বেশি।

অন্যদিকে, যাঁরা টাইট অন্তর্বাস পরেন, তাঁদের দেহে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের মাত্রা তুলনায় বেশি পাওয়া যায়, যা অণ্ডকোষকে অধিক পরিশ্রমে বাধ্য করে এবং পরোক্ষভাবে প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষণায় এও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বাসের ধরন বদলালেও ডিএনএ-র গুণমান বা অন্যান্য প্রজনন হরমোনে বড় কোনও ক্ষতি দেখা যায়নি।