ডিভাইডার টপকে এপ্রোচ ওয়েতে উঠে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরবাইককে সজোরে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কার জেরে বাইক আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান এবং আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন পথচারীকে গাড়িটি পরপর ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 22 November 2025 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউটাউনে (New Town) শনিবার ভোরের শান্ত আবহ যেন মুহূর্তে আতঙ্কে বদলে গেল। সকাল সকাল পথচারী ও অফিসযাত্রীদের চোখের সামনেই ঘটে গেল ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা (Terrible Accident)। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পরপর একের পর এক মানুষকে ধাক্কা মারায় গুরুতর জখম (Injured ) হয়েছেন মোট সাত জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন এক বাইক আরোহী এবং গাড়ির চালক নিজেও।
ঘটনা ঘটে ইকোপার্কের চার নম্বর গেটের সামনে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব বাংলা গেটের দিক থেকে আকাঙ্ক্ষা মোড়ের দিকে দ্রুতগতিতে আসছিল সাদা রঙের একটি গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডিভাইডারে জোরে ধাক্কা মারে। কিন্তু সেখানেই থেমে যায়নি বিপদ। ডিভাইডার টপকে এপ্রোচ ওয়েতে উঠে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরবাইককে সজোরে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কার জেরে বাইক আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান এবং আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন পথচারীকে গাড়িটি পরপর ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
জখম ৭ জনকেই দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিউ টাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। গাড়ির চালকও গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত গতি নাকি গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি — তা এখনই নিশ্চিত নয়।
এই ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই একই অংশে বারবার দ্রুতগতির গাড়ির দাপাদাপিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সকালের হাঁটাহাঁটি বা ডিউটি যাওয়ার সময়ে মানুষজন প্রচণ্ড ভয় নিয়ে রাস্তা পার হন। তাঁদের দাবি, ওই এলাকায় স্পিড ব্রেকার এবং গতিনিয়ন্ত্রণে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাড়ির চালকসহ গাড়িটিকে আটক করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউ টাউন ট্রাফিক গার্ডও ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আহতদের হাসপাতালের চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে দু’জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রতিদিনই এই রাস্তায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি ছুটে চলে। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ ঘটবে।”