সাধারণ পর্যটকদের পার্ক থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে ব্যস্ততম শিপিং জেটিও। ফলে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

বন্ধ শিপিং জেটি
শেষ আপডেট: 3 April 2026 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের সামনে কোনও রকম অশান্তি যাতে না হয়, তাই আগেই স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। এবার শুক্রবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল মিলেনিয়াম পার্কও (millennium park)। সাধারণ পর্যটকদের পার্ক থেকে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে ব্যস্ততম শিপিং জেটিও। ফলে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

গত ৩১ মার্চ সিইও দফতরের সামনে প্ররোচনামূলক স্লোগান এবং পুলিশি বাধা অমান্য করে জমায়েত করার অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor), ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচিন সিং। এছাড়াও মহম্মদ ওয়াসিম, মইদুল, চন্দ্রকান্ত সিং এবং মহম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে এফআইআর করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মার্চ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে, ভিনরাজ্যের ভোটারদের (Voter List) নাম বেআইনিভাবে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে এ রাজ্যের তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। তিনি দলীয় কর্মীদের নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন। এর পরদিন, অর্থাৎ ৩১ মার্চ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সিইও দফতরে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতা ব্যাগভর্তি প্রায় ৪০০টি ফর্ম ৬ নিয়ে দফতরে ঢুকেছিলেন, যা হাতেনাতে ধরে ফেলেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। ওই দিনই দুই শিবিরের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্ট্র্যান্ড রোড।

পুলিশ জানিয়েছে, শান্তি বজায় রাখতেই মিলেনিয়াম পার্ক এবং সংলগ্ন ফেরিঘাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই এলাকা পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকবে। শিপিং জেটি বন্ধ থাকায় হাওড়া স্টেশন থেকে আসা বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সিইও মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে লালবাজার।