সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও সিইও অফিসের সামনে নতুন করে ধর্নায় বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজও বিপুল পরিমাণে ‘ফর্ম ৬’ বা নতুন ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 31 March 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফর্ম-৬ ফিলআপ (Form 6) করিয়ে বাইরের ভোটারদের বাংলায় ঢোকানো হচ্ছে। সোমবার সেই অভিযোগ তুলে সিইও অফিসে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ওই সময় শিপিং কর্পোরেশন অফিসের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও সিইও অফিসের সামনে নতুন করে ধর্নায় বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজও বিপুল পরিমাণে ‘ফর্ম ৬’ বা নতুন ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সংঘাতের আবহে সিইও অফিসের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয় ফর্ম-৬। এই ফর্মটি প্রধানত দুই শ্রেণির আবেদনকারী ব্যবহার করেন। এক, যাঁরা প্রথম বারের মতো ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করছেন। দুই, যাঁরা এক সংসদীয় বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্যটিতে বাসস্থান পরিবর্তন করছেন। বয়স এবং বাসস্থানের প্রমাণস্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-সহ এই ফর্মটি পূরণ করে জমা দেওয়া ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ। অভিষেক দাবি করেন, সেই ফর্ম নিয়ে সরাসরি সিইও দফতরে গিয়েছিলেন বিজেপির কিছু লোক।
ভিডিও-প্রমাণ ও জালিয়াতির অভিযোগ
তৃণমূল শিবিরের দাবি, তাঁদের কাছে স্পষ্ট ‘ভিডিও প্রমাণ’ রয়েছে যে বিজেপি নেতৃত্ব আজও নিয়মবহির্ভূতভাবে বস্তাভর্তি ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, গতকালের মতো আজও ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর যে প্রচেষ্টা চলছিল, হাতেনাতে তার প্রমাণ মিলেছে। এই ‘জালিয়াতি’ রুখতে এবং স্বচ্ছতার দাবিতেই ফের ধরণার পথ বেছে নিয়েছে শাসকদল।
সিইও অফিসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঢাল
টানা বিক্ষোভ ও ধস্তাধস্তির আশঙ্কায় মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে নিরাপত্তার বলয় আরও মজবুত করা হয়েছে। শিপিং কর্পোরেশনের মূল প্রবেশপথের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সূত্রের খবর, বারবার তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ‘অশান্ত’ আচরণের জেরে কমিশন আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। আন্দোলনকারীদের আটকাতে রাস্তার ওপর বসানো হয়েছে কড়া ব্যারিকেড।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিসিটিভি (CCTV) এবং ড্রোন-নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও খবর। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।