মমতার অভিযোগ, এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকায় ‘বহিরাগত’দের নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে বিজেপি। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়েও কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 31 March 2026 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় (West Bengal Assembly Election 2026) স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, এক গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার ভোটার তালিকায় ‘বহিরাগত’দের নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে এবং তাতে মদত দিচ্ছে বিজেপি। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়েও কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
চিঠিতে কী লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মঙ্গলবার পাঠানো এই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ‘এসআইআর’ বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেছেন, “বিজেপি এজেন্টরা সুকৌশলে কয়েক হাজার ‘ফর্ম ৬’ (নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন) জমা দিচ্ছে। আমাদের কাছে খবর আছে, যাঁরা বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন বহু মানুষের নাম তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে।” বিহার, হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাতেও একই ছক কষা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সোমবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ফর্ম-৬ ভর্তি বস্তা নিয়ে সোমবার কমিশনে ঢুকেছিলেন বিজেপির লোকজন। উদ্দেশ্য, বিহার, উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানো। মঙ্গলবার চন্দ্রকোনার নির্বাচনী জনসভা থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যু নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন।
মমতা তাঁর চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের ২০ ফেব্রুয়ারির একটি নির্দেশের কথাও উল্লেখ করে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন বা নাম তোলার বিষয়টি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) মাধ্যমে হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, যেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন ঝুলে রয়েছে, সেখানে কমিশনের আধিকারিকদের মাধ্যমে নতুন করে ৩০ হাজার আবেদন গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ এবং আদালতের অবমাননা।
আইনি জট ও বঞ্চনার অভিযোগ
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে কোনও আবেদন গ্রহণ করা উচিত নয়। কিন্তু কমিশন ‘২৭ মার্চ’ একটি মেমো জারি করে নাম তোলার সময়সীমা বাড়িয়েছে, যা প্রকারান্তরে বিজেপি প্রার্থী ও বহিরাগতদের সুবিধা করে দেবে। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশন কাজ করলেও, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী হওয়া উচিত নয়।
কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছেন, যাতে অবিলম্বে এই ‘বেআইনি’ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয় এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা হয়। তাঁর দাবি, কমিশনের নিরপেক্ষ থেকে জনমানসে স্বচ্ছতার বার্তা দেওয়া উচিত।