বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুয়ো ভোটার ব্যবহার করে বাংলা দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 31 March 2026 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পরে এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে। মঙ্গলবার চন্দ্রকোনার সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভূয়ো ভোটার (West Bengal Assembly Election 2026) ব্যবহার করে বাংলা দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “গতকাল অভিষেকরা মিটিং ছেড়ে তারাতারি চলে গেল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বাবু কী হয়েছে?” অভিষেক বলল, “দিদি জানো না, ওরা তিরিশ হাজার ফর্ম জমা দিয়েছে নতুন করে।” তাঁর অভিযোগ, পুরনো নামের নিষ্পত্তি না করেই বাইরে থেকে ভুয়ো ভোটার এনে লিস্টে নাম তোলা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ৩০ হাজার ফর্ম জমা দিয়েছে বিজেপি। তাঁর দাবি, শুনানি করে বাকি থাকা নাম তোলা শেষ হয়নি অথচ বিহার–রাজস্থান-হরিয়ানার মত জায়গা থেকে লোক এনে বাংলার ভোটার তালিকায় তাদের নাম ঢোকাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, বিজেপি বাইরে থেকে লোক থেকে খড়গপুর, আসানসোলের মত জায়গায় ভোট দেওয়াবে। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার মানুষকে বাদ দিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকার আপনাদের ভোট দখল করবে।” বাংলার ভোটারদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সব জায়গায় লক্ষ্য রাখুন, কোথায় কী হচ্ছে। এরা বাংলাকে তুলে দিতে চায়, বধ করতে চায়।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকার পরেও বহু মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি দেখেছি যাদের নাম এখন বাদ গিয়েছে, তাঁরা কীভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “এসআইআর মানে সর্বনাশ। আমি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলাম বলে ২২ লক্ষ লোকের নাম তালিকায় ঢুকেছে, কিন্তু ১৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। মানুষের বাঁচার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার সব কেড়ে নিচ্ছে।”
এখানেই না থেমে, বিজেপির নীতিকে দু’মুখো বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে থাকি। ওরা সৌদিতে গিয়ে গলা মেলায় টাকা আনে। আরবে গিয়ে এক টেবিলে বসে খাবার খায়। আর দেশে এসে বলে সবাইকে তাড়া। দু’মুখো নীতি। এই দ্বিচারিতা চলবে না।”
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের জন্য ভোটার তালিকা এক প্রকার চূড়ান্ত। কারণ, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy in sir list) জন্য ঝুলে ছিল, তার মধ্যে ৪৫ লক্ষ যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ৪৫ লক্ষ আবেদন যাচাই হলেও এখনও পর্যন্ত ৩৮ লক্ষ ভোটারের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় (Supplementary Voter list) উঠেছে। হিসাব মতো তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ ভোটার তথা আবেদন অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। অর্থাৎ ৩৮ লক্ষের মধ্যে কমবেশি ২১ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় (Voter list) উঠেছে। বাকি প্রায় ১৭ লক্ষের নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে এখনও পর্যন্ত নাম বাদ গেছে ৮০ লক্ষেরও বেশি।