প্রথম দফার ভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। মনোনয়ন জমা নেওয়ার শেষ দিন হল ৬ এপ্রিল। সেই কারণেই প্রথম দফার জন্য লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা আর যাচাইয়ের কাজ হবে না বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হবে গোটা উত্তরবঙ্গে। সেই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ভোট গ্রহণ হবে প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল।

জ্ঞানেশ কুমার।
শেষ আপডেট: 31 March 2026 11:34
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য ভোটার তালিকা এক প্রকার চূড়ান্ত। কারণ, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের আবেদন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির (logical discrepancy in sir list) জন্য ঝুলে ছিল, তার মধ্যে ৪৫ লক্ষ যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রথম দফার ভোট যেখানে যেখানে রয়েছে, সেখানে আপাতত আর যাচাইয়ের কাজ হবে না। এবার দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য যাচাইয়ের কাজ যথাসম্ভব এগোনো হবে।
প্রথম দফার ভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। মনোনয়ন জমা নেওয়ার শেষ দিন হল ৬ এপ্রিল। সেই কারণেই প্রথম দফার জন্য লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা (logical discrepancy in sir list) আর যাচাইয়ের কাজ হবে না বলে কমিশন (ECI) সূত্রে জানা গেছে। বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হবে গোটা উত্তরবঙ্গে (Noth bengal)। সেই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ভোট গ্রহণ হবে প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল।
তবে ৪৫ লক্ষ আবেদন যাচাই হলেও এখনও পর্যন্ত ৩৮ লক্ষ ভোটারের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় (Supplementary Voter list) উঠেছে। হিসাব মতো তার মধ্যে ৪৫ শতাংশ ভোটার তথা আবেদন অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। অর্থাৎ ৩৮ লক্ষের মধ্যে কমবেশি ২১ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় (Voter list) উঠেছে। বাকি প্রায় ১৭ লক্ষের নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এর সহজ ও স্পষ্ট মানে হল, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে এখনও পর্যন্ত নাম বাদ গেছে ৮০ লক্ষেরও বেশি। এর মধ্যে মৃত, ডুপ্লিকেট, অনুপস্থিত ও অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার যেমন রয়েছে। তেমন রয়েছে আন ম্যাপড ভোটার (mapped voter) ও অযোগ্য ভোটার। অর্থাৎ লজিকাল ডিসক্রেপেন্সির (logical discrepancy in sir list) কারণে যে ভোটারের আবেদন ঝুলে ছিল এবং বিচার বিভাগীয় অফিসাররা যাদের আবেদন যাচাই করে অযোগ্য বলে বাতিল করেছেন।
এখানে জানিয়ে রাখা ভাল যে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ আবেদন জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
এর পরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এক জন যোগ্য ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, তাহলে কি নির্বাচন হওয়া সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের মতে, এটা স্থির করার এক্তিয়ার একমাত্র কমিশনেরই রয়েছে। একবার ভোট ঘোষণা হয়ে গেছে, এর পর তা আর আটকাবে না। আবার অনেকে মনে করছেন, এখনই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। এটা ঠিকই নির্বাচন কমিশন একবার ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাতে হস্তক্ষেপ করেছে—এমন নজির নেই। তবে এ ক্ষেত্রে দেখার শীর্ষ আদালত বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে।
কমিশনের কর্তারা এই জটিলতার জন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকার গোড়া থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা করেছে। তার পর থেকে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতেই হচ্ছে। এ ব্যাপারে আর কমিশনের করণীয় কিছু নেই।