বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে জনসভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয় ভূমিকা এবং প্রশাসনিক পদে একের পর এক রদবদল নিয়ে বিজেপি ও কমিশনকে একসুরে তোপ দেগেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রিপোর্ট তলব
শেষ আপডেট: 28 March 2026 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ভোটের সময় কেউ ভয় দেখাতে আসলে ঘরে যা আছে হাতা-খুন্তি তাই নিয়ে বেরবেন,' সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly election 2026) প্রচারে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মা-বোনেদের উদ্দেশে এই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই রাজ্যের সিইও-র কাছে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সেই ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। আর এতেই অশান্তি বাড়তে পারে, এমনটাই আশঙ্কা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। তাই সেই ভিডিও খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরকে।
কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে জনসভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয় ভূমিকা এবং প্রশাসনিক পদে একের পর এক রদবদল নিয়ে বিজেপি ও কমিশনকে একসুরে তোপ দেগেছিলেন।
রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, 'তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই তাঁদের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার কোনও ঘটনা হলে সামলাবে কে?'
সেই জনসভা থেকেই 'মা-বোনেদের' উদ্দেশে তাঁর আহ্বান ছিল, "ভোটের দিন সকালে বুথ পাহারা দিন। যাতে বাইরে থেকে লোক এসে ছাপ্পা না দিতে পারে। যদি কেউ ভয় দেখাতে আসে যা আছে (হাতা-খুন্তি), তাই নিএই বেরিয়ে যাবেন। রান্না তো আপনারা করেনই, আমি বেশ বলব না।'
ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। লক্ষ্য ছিল, হিংসামুক্ত নির্বাচন। কয়েক সপ্তাহ আগে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) রাজ্য সফরে এসেও আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তবে তারপরও বিভিন্ন জেলা থেকে অশান্তি, খুনের ঘটনা সামনে এসেছে।
সম্প্রতি বাঘাযতীনে এক তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে খুন করা হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে (Basanti) বিজেপির প্রচারকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি হয়। অভিযোগ ওঠে, বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের প্রচার চলাকালীন সেখানে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রচারে বাধা দিলে অশান্তি চরমে ওঠে। এরপরই নতুন করে আক্রমণ-পালটা আক্রমণে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। জখম হন ৮ পুলিশকর্মী।
সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে বাসন্তী থানার আইসি (IC) অভিজিৎ পালকে শুক্রবার তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (EB) ইন্সপেক্টর প্রবীর ঘোষকে।