কর্তব্যে গাফিলতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে বাসন্তী থানার আইসি (IC) অভিজিৎ পালকে শুক্রবার তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল কমিশন।

সাসপেন্ড আইসি অভিজিৎ পাল
শেষ আপডেট: 27 March 2026 21:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট-প্রচারে রক্ত ঝরেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। আর সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। কর্তব্যে গাফিলতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে বাসন্তী থানার আইসি (IC) অভিজিৎ পালকে শুক্রবার তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (EB) ইন্সপেক্টর প্রবীর ঘোষকে।
কমিশনের কড়া পর্যবেক্ষণ
কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৬ মার্চ বাসন্তী বাজার এলাকায় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও জখম হন। শুক্রবার নবান্নকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, ওই এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি অভিজিৎ পাল। এমনকি গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন থাকলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সাহায্য নেওয়া হয়নি। কমিশনের মতে, এটি অত্যন্ত গুরুতর অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা ও বিভাগীয় তদন্ত
আইসি অভিজিৎ পালের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে শুক্রবার রাত ৯টার মধ্যে এই নির্দেশের পালনের রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। নির্বাচনের ঠিক আগে বাসন্তীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশি ব্যর্থতা নিয়ে কোনও রকম আপস করতে নারাজ দিল্লির ‘নির্বাচন সদন’।
উল্লেখ্য, এর আগেই ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার বদল নিয়ে নবান্নকে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। এবার বাসন্তীর ঘটনায় পুলিশি রদবদল স্পষ্ট করে দিল যে, ছাব্বিশের ভোটের নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র খামতি থাকলে কড়া দাওয়াই দিতে পিছপা হবে না জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
ক'দিন আগেই বিজেপির প্রচারকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি হয় বাসন্তীতে (Basanti)। অভিযোগ ওঠে, বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের প্রচার চলাকালীন সেখানে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রচারে বাধা দিলে অশান্তি চরমে ওঠে। এরপরই নতুন করে আক্রমণ-পালটা আক্রমণে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা।
পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে গিয়ে জখম হন ৮ পুলিশকর্মী। যদিও এর সঙ্গে তাঁদের যোগ নেই বলেই দাবি তৃণমূলের। স্থানীয় নেতাদের কথায়, “বিজেপির বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে।” কোনওক্রমে ঘটনাস্থল ছেড়ে ভারত সেবাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। তবে বিজেপির থেকে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল।