আদালত থেকে তালিকা পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে। সেই অনুযায়ী, শুক্রবার দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। একইসঙ্গে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠন নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 26 March 2026 20:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে সোমবার মধ্যরাতে এসআইআরের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা (West Bengal SIR Supplementary List 2026) প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। জানানো হয়েছিল, প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৯ লক্ষের ফয়সালা হয়েছে। বুধবারের তথ্য ছিল, এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২ লক্ষের। বৃহস্পতিবার জানা গেল, এই সংখ্যাটা এখনও পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে।
আদালত থেকে তালিকা পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে। সেই অনুযায়ী, শুক্রবার দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। একইসঙ্গে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠন নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজ্যের তরফে চারটি সম্ভাব্য জায়গার প্রস্তাব দেওয়া হলেও নিউটাউনের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিতেই ট্রাইবুনাল গড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে সূত্রের খবর। সেখানে কতগুলি ট্রাইবুনাল বসানো যাবে, তা খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই পরিদর্শনে যাবেন কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সিইও দফতরের আধিকারিকরা।
এদিকে বাসন্তীর ঘটনাকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেন ওই এলাকায় আগে থেকেই বাহিনী থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী ডাকা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া মিছিল হওয়া সত্ত্বেও তা কেন আটকানো যায়নি এবং গোয়েন্দা তৎপরতায় কোথায় ঘাটতি ছিল- এসব নিয়েও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছেই এই রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাসন্তীতে এদিন বিজেপির প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রচার শুরু করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। অভিযোগ, সেই প্রচারকে ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। তা নিয়ে শুরু বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তে সংঘর্ষে (Basanti agitation before west bengal election) পরিণত হয়। এই ঘটনায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অন্যদিকে চারজন অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যে অভিযোগ তুলেছে, সেই প্রসঙ্গেও কমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অবজার্ভারদের নিয়োগ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনই। ফলে এই অভিযোগ সরাসরি তাদের কাছেই পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় কমিশনই।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে একাধিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও কড়া নজরদারির আওতায় আনছে।