এদিন আরও চার জন ‘জেনারেল অবজার্ভার’-এর অতীত রেকর্ড জনসমক্ষে এনে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল রাজ্যের শাসকদল।

সায়নী ঘোষ ও ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 26 March 2026 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশন (Election Commission) এখন বিজেপি-র ‘নিয়োগকারী সংস্থা’ (রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি) হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই বেনজির আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। মালদহে এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের পারিবারিক ‘পদ্ম-যোগ’ ফাঁস করার পর, এদিন আরও চার জন ‘জেনারেল অবজার্ভার’-এর অতীত রেকর্ড জনসমক্ষে এনে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগ, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) নামে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন সব আধিকারিকদের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে কোটি টাকার দুর্নীতি, এমনকি নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূলের নিশানায় যে চার পর্যবেক্ষক
ধীরজ কুমার (গাজোল, মালদহ): মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কমিশনার থাকাকালীন ৮ হাজার কোটি টাকার অ্যাম্বুল্যান্স টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে এই আধিকারিকের নাম জড়িয়েছিল বলে দাবি তৃণমূলের। এ হেন ‘অভিযুক্ত’ ব্যক্তিকে গাজোলের পর্যবেক্ষক করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ঘাসফুল শিবির।
অজয় কাটেসারিয়া (বনগাঁ দক্ষিণ): মধ্যপ্রদেশের সাতনার জেলাশাসক থাকাকালীন ৪০ একরের বেশি সরকারি জমি নিয়মবহির্ভূত ভাবে ব্যক্তিগত মালিকানায় হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রেওয়া কমিশনারের রিপোর্টে তাঁকে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছিল বলে তৃণমূলের দাবি।
গন্দম চন্দ্রুডু (বালিগঞ্জ): অন্ধ্রপ্রদেশের ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার ডিরেক্টর থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে পণ চেয়ে বধূ নির্যাতনের মামলা রুজু হয়েছিল। কলকাতার অভিজাত বালিগঞ্জ কেন্দ্রের দায়িত্ব তাঁর হাতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শাসকদল।
অরিন্দম ডাকুয়া (মধ্যমগ্রাম): ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির ব্যক্তিগত সচিব (PS) হিসেবে কাজ করেছেন এই আধিকারিক। তৃণমূলের বক্তব্য, সরাসরি বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোককে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে কমিশন আসলে ‘পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টি’র নির্লজ্জ নজির গড়ল।
টুইট করে তৃণমূলের তরফে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করা হয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন কেবল বেছে বেছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ বা কলঙ্কিত আধিকারিকদেরই বাংলায় পাঠাচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বের তোপ, “পুরনো প্রবাদ আছে চোর ধরতে চোর নিয়োগ করা হয়। কিন্তু কমিশন এখন নির্দোষ মানুষদের হেনস্থা করতে চোর-জোচ্চোরদের নিয়োগ করছে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন কোনও সাফাই দেয়নি।