স্টিফেন কোর্ট থেকে বড়বাজার— অতীতের আগুনে পুড়ে সতর্ক প্রশাসন। পুজোর আগে পুরনো রেস্তরাঁ খুলছে, তবে ‘হাফ ছাদ খালি’, সিঁড়ি খোলা আর দমকলের কড়া অডিটেই মিলবে ছাড়পত্র।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আগে (Durga Puja) শহরের আকাশছোঁয়া রেস্তরাঁয় (Roof Top Restaurant) ফের প্রাণ ফেরাচ্ছে পুর প্রশাসন। তবে খোলা ছাদে খাওয়াদাওয়ার ছাড়পত্র মিলছে একগাদা শর্তের খাতায় সই করে তবেই।
অতীতের ভয়াবহ আগুনের স্মৃতি (Stephen Court Incident) এখনও টাটকা। তাই এবারে ঢালাও কড়াকড়িতে ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বার্তা, “ছাড়পত্র চাই? তা হলে অগ্নি-নিরাপত্তা আগে!”
ফিরহাদ বলেন, নতুন করে আমরা কোনও রেস্তরাঁর অনুমোদন দিচ্ছি না। তবে যেগুলি ছিল, সেগুলি পুজোর আগেই চালু হবে।তবে রুফটপ চালু করা হলেও মানতে হবে একাধিক শর্ত। মোট রুফটপের ৫০ শতাংশ খালি রাখতে হবে। যেদিকে হাইড্রোলিক ল্যাডার ঢুকবে রেস্তরাঁর সেই দিকে ৫০ শতাংশ এলাকা খালি রাখতে হবে, যাতে উদ্ধারকার্য করা যায়। মানুষকে বাঁচাতে যা যা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা দরকার, তা রাখতে হবে। রাখতে হবে প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা।
একনজরে রইল নয়া শর্ত
ছাদে বসার জায়গার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ খালি রাখতে হবে।
রাস্তার দিকে রেসকিউ স্পেস রাখতেই হবে।
থাকতে হবে চলমান ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা — জলের পাইপ, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, অ্যালার্ম সিস্টেম সহ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সিঁড়ি খোলা রাখতে হবে। স্টিফেন কোর্টের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই নির্দেশ।
গত এপ্রিলের এক রাতে বড়বাজারের মেছুয়ার ফলপট্টির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছিল নানাবিধ প্রশ্ন। এরপরই শহরের রুফটপ রেস্তরাঁগুলির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি সামনে এসেছিল। এ নিয়ে মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টেও। যার জেরে গত মে মাসে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, শহরে আর কোনও রকম রুফটপ (Roof Top Restaurant) রেস্তরাঁ করা যাবে না।
ঘটনার পরই রাজ্যের তরফে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির রিপোর্ট আসার পরই ফের রুফটপ রেস্তরাঁ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে জানান মেয়র।
২০১০ সালে স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছিল, বিকল্প সিঁড়ি থাকলেও তা বন্ধ করে রাখার ফলে অনেকেই সেই রাতে বাইরে বেরোতে পারেননি। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ওই প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, স্টিফেন কোর্টের ক্ষেত্রে দেখেছিলাম সিঁড়িটা বন্ধ রাখার ফলে সেখানে এসে মানুষ মারা গিয়েছিল। এক্ষেত্রে সিঁড়ি খালি রাখতে হবে। পাশাপাশি রুফটপ চালুর আগে নতুন করে দমকল বিভাগের তরফে অডিট করা হবে।
একই সঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ভবিষ্যতে আমরা একটা বিল আনব, যেখানে ছাদ কমন এরিয়া হিসেবে রাখতে হবে। ফায়ার, পুলিশ এবং কর্পোরেশন তিন মাস অন্তর সরোজমিনে খতিয়ে দেখবে। নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ফিরহাদের কড়া বার্তা—"মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ব্যবসা চলতে পারে না। ছাড়পত্র চাইলে নিয়ম মানতেই হবে।"
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্টিফেন কোর্ট থেকে মেছুয়ার দমবন্ধ ঘর— দু’দশকের দুই ট্র্যাজেডির জেরেই প্রশাসনের অন্দরে এই বাড়তি সতর্কতা।