কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলা তদন্ত করছে সিবিআই। শুক্রবার তাদের তরফে আদালতে জানানো হয়, ১১ জনকে ইতিমধ্যেই জেরা করা হয়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 November 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্তে ‘গাফিলতি’র অভিযোগ ফের তীব্র হল আদালতকক্ষে। শুক্রবার সপ্তম ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ জমা দিতে শিয়ালদহ আদালতে হাজির হয়েছিল সিবিআই।
আর সেখানেই তদন্তকারী সংস্থার দিকে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন নির্যাতিতার মা। আদালতকক্ষের মাঝেই তাঁর চিৎকার, “ওরা নির্লজ্জ!” এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই আদালতকক্ষের বাইরে বেরিয়ে কেঁদে ফেলেন সিবিআইয়ের মহিলা তদন্তকারী অফিসার। তাঁর ব্যথাভরা উত্তর, “আমিও মা…”
এদিন এমনই আবেগঘন, উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল আদালত চত্বর।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলা তদন্ত করছে সিবিআই। শুক্রবার তাদের তরফে আদালতে জানানো হয়, ১১ জনকে ইতিমধ্যেই জেরা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সিডিআর খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অনুসন্ধান চলছে কলেজ-হস্টেল ঘিরে পাওয়া তথ্য নিয়েও।
কিন্তু তদন্তের গতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা-মা। আদালতে দাঁড়িয়েই মা অভিযোগ করেন,
“এত দিনেও সত্যিটা বলার সাহস নেই! তদন্তই ঠিক মতো করছে না ওরা।”
এর আগেও একাধিক বার সিবিআইয়ের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। শুক্রবার আদালতে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “সিবিআই অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য যা করার করছে। ফোন ধরেন না, তথ্য লুকোনো হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, হস্টেল থেকে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু নিয়ে তদন্তকারী অফিসার নাকি স্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন না। দিল্লিতে সিবিআইয়ের ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করতেই তাঁকে বলা হয়েছিল: “তা হলে আমরা মামলা ছেড়ে দিচ্ছি।”
পরে নাকি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়ার। বিচারকের প্রশ্নে তিনি জানান, হস্টেল থেকে পাওয়া ওই তথ্য তাঁরা গোপন জবানবন্দি হিসেবে জানাতে চান।
নির্যাতিতার মা-বাবার আরও অভিযোগ, তদন্তের শুরুতে এক সময় তদন্তকারী অফিসার নাকি বলেছিলেন,
“মেয়েটার কপাল খারাপ, সঞ্জয় গিয়ে করেছে…!” তিনি আরও জানান, কী বলতে হবে তা নাকি বাবাকে ‘শিখিয়ে’ দেওয়া হয়েছিল।
আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে তাঁদের মেয়ের দেহ প্রথমে দেখতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ না এলে আমরা মেয়েকে দেখতে পেতাম না!”
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উদ্দেশে নির্যাতিতার মায়ের 'নির্লজ্জ' মন্তব্যের পর বিচারক বাবা-মাকে শান্ত থাকতে বলেন। আদালতকক্ষের বাইরে যেতে নির্দেশ দেন।
সেখানেই কিছু ক্ষণ পরে আবেগভরে কাঁদতে দেখা যায় সিবিআইয়ের মহিলা আইও-কে, 'আমিও মা' তাঁর অসহায়ের মতো উচ্চারণ।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি। সেদিন কেস ডায়েরি নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে সিবিআইকে।