বিজেপির দাবি, “মানুষ পরিবর্তন চাইছে।” তৃণমূলের পাল্টা, “অঙ্ক, আবেগ, বাস্তব— তিন দিক দিয়েই বাংলা এক অন্য ছবি।” ফলে বিহারের উচ্ছ্বাস কি বাংলায় গেরুয়া ঢেউ তুলবে, নাকি কল্যাণের অঙ্কই শেষ পর্যন্ত মিলে যাবে? সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
.jpeg.webp)
কল্যাণ-শুভেন্দু।
শেষ আপডেট: 14 November 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনের ফল (Bihar Assembly Election Result 2025) ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানও উত্তপ্ত। গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ-মোদীর কুশপুতুল, ব্যানার নিয়ে কর্মীদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, “অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ দখল হবেই।”
কিন্তু সেই গেরুয়া উৎসবের মাঝেই পাল্টা অঙ্ক কষে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা—
“সেগুড়ে তো বালি! বিজেপির আনন্দ করার কিছু নেই। যে অঙ্কে বিহারে বিজেপি জিতেছে, সেই অঙ্কে বাংলায় তৃণমূলও জিতবে।”
শুভেন্দুর নাম না করে কল্যাণের আরও তির, “কাঁথির নেতা পরের বার আর জিততে পারবে না।”
দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বলেন, “বিহারে কী হয়েছে? যারা সরকারে ছিল তাঁরাই ফিরেছে। কোনও প্রতিষ্ঠানবিরোধী প্রবণতা ছিল না। বাংলাতেও তাই— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, এবং ফিরেও আসবে।”
তিনি আরও যোগ করেন—“বিহারে বিজেপি-নীতীশ দু’পক্ষের সংগঠনই মজবুত। বাংলায় তৃণমূলের সংগঠন দুর্দান্ত, বিজেপির খুবই দুর্বল। বামেরা কোথাও নেই। অঙ্ক ধরলে বিজেপির খুশি হওয়ার মতো কিছু নেই।”
তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ-আইনজীবী টেনে এনেছেন এসআইআর এর প্রসঙ্গও। কল্যাণ বলেন, “বিহারে এসআইআর ছিল না। বাংলায় যেভাবে এসআইআর করে বিজেপি বাঙাল আর মতুয়াদের মধ্যে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করেছে, সেই অঙ্কেই তো ওরা পিছিয়ে যাচ্ছে।”
বিহারে এবারের ভোটে অন্যতম গেম চেঞ্জার হয়ে উঠেছে মহিলাদের জন্য একটি এককালীন অনুদান। ভোটের ঠিক আগে সেপ্টেম্বর মাসে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা শুরু করে নীতীশ সরকার (Nitish Kumar)। তার পর বিহারের ১ কোটি ২৩ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০,০০০ টাকা করে পাঠিয়ে দেয় তাঁর সরকার।
এক্ষেত্রেও তৃণমূল বিজেপির চেয়ে কয়েকশ কদম এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “মহিলাদের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো দেশের মডেল। ওরা ভোটের মুখে একবার মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে, আমরা সারা বছর দিই। লক্ষ্মীর ভান্ডার ২০২১ সাল থেকে বাংলায় বিপুল প্রভাব ফেলেছে। এই অঙ্কেও তৃণমূল অনেক এগিয়ে।”
বিজেপির দাবি, “মানুষ পরিবর্তন চাইছে।” তৃণমূলের পাল্টা, “অঙ্ক, আবেগ, বাস্তব— তিন দিক দিয়েই বাংলা এক অন্য ছবি।” ফলে বিহারের উচ্ছ্বাস কি বাংলায় গেরুয়া ঢেউ তুলবে, নাকি কল্যাণের অঙ্কই শেষ পর্যন্ত মিলে যাবে? সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।