দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ দুর্ঘটনাগ্রস্ত লিফটের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রতিটি লিফটের যান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতি ৩০ দিন অন্তর পরীক্ষা করা হয় এবং মাসে একবার অডিট করা হয়।

আরজি করে বৈঠক
শেষ আপডেট: 23 March 2026 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে লিফট বিপর্যয়ে (RG Kar Lift Accident) দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা (RG Kar security) নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। এরপরই সোমবার এনিয়ে বৈঠক বসার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তার কয়েকঘণ্টা আগেই চিকিৎসা করাতে এসে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের (RG Kar death)। অব্যাবস্থার অভিযোগ মৃতের পরিবারের।
গত শুক্রবার ছেলের ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাতে সস্ত্রীক আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) গিয়েছিলেন অরূপ। সেখানেই লিফটে আটকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, তা খতিয়ে দেখতেই আজ সোমবার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসছে। থাকবেন রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যরাও (RG Kar Meeting)।
হাসপাতালের ২২টি লিফটের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। পাশাপাশি হাসপাতালের সামগ্রিক সুরক্ষা নিয়েও আলোচনা হবে।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ দুর্ঘটনাগ্রস্ত লিফটের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রতিটি লিফটের যান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতি ৩০ দিন অন্তর পরীক্ষা করা হয় এবং মাসে একবার অডিট করা হয়। তাও এই দুর্ঘটনা (RG Kar Accident) কেন ঘটল, তা রিপোর্টেও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা আবশ্যক। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল লিফটম্যানদের জরুরি পরিস্থিতিতে মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া। আরজি কর হাসপাতালে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। শুধু নথি রাখা যথেষ্ট নয়; লিফটের যান্ত্রিক ক্ষমতা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, “যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়, তাহলে কেন আমার ছেলেকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? দোষীদের কঠোর শাস্তি না হলে পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।”
পরিবার শুধু লিফটম্যান বা নিরাপত্তারক্ষীর শাস্তি নয়, যাঁদের দায়িত্ব হাসপাতালের নিরাপত্তার তত্ত্বাবধানের ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা চাইছেন। অমল জানিয়েছেন, এই দাবিতে তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বিশ্বজিৎ সামন্তকে (৬০)। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ট্রমা কেয়ারে (RG Kar Trauma Care) চিকিৎসা চলছিল তাঁর। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল, রবিবার রাত থেকেই বারেবারে ড্রপও দেওয়া হয়েছিল। এরপর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ সামন্ত শৌচালয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওই বিল্ডিংয়ে কোনও শৌচালয় না থাকায় চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বাইরে 'পে অ্যান্ড ইউজ টয়েলেট' ব্যবহার করতে। বাধ্য হয়ে সেখানেই যেতে হয়। কিন্তু একজন অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচারের ব্যবস্থা ছিল না বলেও জানিয়েছেন মৃতের স্ত্রী।
হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পরই অসুস্থ বোধ করেন বিশ্বজিৎ সামন্ত। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সেখান থেকে তাঁকে কোলে তুলে বেডে এনে শোয়ানো হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখে প্রৌঢ়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।