আবারও সেই আর জি কর! চিকিৎসা করাতে এসে মৃত্যু এক প্রৌঢ়ের। কয়েকদিন আগে এই হাসপাতালেই লিফট বিপর্যয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এরমধ্যেই ফের অব্যস্থার অভিযোগ আরজি করের বিরুদ্ধে।

আরজি করে প্রৌঢ়ের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 23 March 2026 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও সেই আর জি কর (RG Kar)! চিকিৎসা করাতে এসে মৃত্যু এক প্রৌঢ়ের। কয়েকদিন আগে এই হাসপাতালেই লিফট বিপর্যয়ে (RG Kar Lift Accident) এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এরমধ্যেই ফের অব্যস্থার অভিযোগ আরজি করের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বিশ্বজিৎ সামন্তকে (৬০)। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ট্রমা কেয়ারে (RG Kar Trauma Care) চিকিৎসা চলছিল তাঁর। নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল, রবিবার রাত থেকেই বারেবারে ড্রপও দেওয়া হয়েছিল। এরপর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ সামন্ত শৌচালয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওই বিল্ডিংয়ে কোনও শৌচালয় না থাকায় চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বাইরে 'পে অ্যান্ড ইউজ টয়েলেট' ব্যবহার করতে। বাধ্য হয়ে সেখানেই যেতে হয়। কিন্তু একজন অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচারের ব্যবস্থা ছিল না বলেও জানিয়েছেন মৃতের স্ত্রী।
হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পরই অসুস্থ বোধ করেন বিশ্বজিৎ সামন্ত। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর সেখান থেকে তাঁকে কোলে তুলে বেডে এনে শোয়ানো হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখে প্রৌঢ়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে বাইরে থাকা জওয়ানকে সাহায্যের জন্য ডেকেছিলেন কিন্তু তিনিও আসেননি। সরকারি হাসপাতালের এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার। যদিও এখনও এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রাথমিক অনুমান, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে প্রৌঢ়ের। তবে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে এরপরই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তিনদিন আগেই আরজি করে লিফট বিপর্যয়ের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছেলের ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাতে এসে ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার ভোরে ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে আরজি করে গিয়েছিলেন অরূপ। ছেলের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। সেইমতোই সব প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই তিনজন আটকে পড়েন ট্রমা কেয়ারের লিফটে (RG Kar Trauma Care)। সেখানেই এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর স্ত্রী সন্তানের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা ভয়াবহ। মৃত যুবকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, প্লীহা, এমনকী অন্ত্রও ফেটে গেছিল! দেহের ভিতরই সাংঘাতিক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এই ঘটনায় ৩ জন লিফটম্যান-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।